দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা ও খামারিদের নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাঁর মতে, সঠিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে খাতটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
বুধবার রাজধানীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় পরিচালকদের ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও খামারিদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এ উদ্যোগের ফলে খাতভিত্তিক বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করলে উৎপাদন বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অপরিকল্পিতভাবে সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় অযথা বেড়ে যায়। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে হবে।
তিনি জানান, তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিকভাবে খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত পরামর্শ সরাসরি নেওয়া হবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার এ খাতের উন্নয়নে আন্তরিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যোক্তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগীয় পরিচালকরা অনলাইনে সভায় যুক্ত হন।
সূত্র: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।