বিশ্বকাপের শেষ চারে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে বিরাজ করছে তুমুল উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ রাত ১টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হচ্ছে তাদের।
ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ দুই অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনের দ্বৈরথ। আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা মেসি এবারের বিশ্বকাপে আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজের অসাধারণ ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে থাকা কেইন ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।
মেসি এখনও আক্রমণ গড়ে তোলা, গোলের সুযোগ সৃষ্টি এবং ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বয়স ৩৯ হলেও তার পারফরম্যান্সে সেই ধার কমেনি। অন্যদিকে, কেইনের শক্তি তার নিখুঁত ফিনিশিং, ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের গুণাবলি। কঠিন মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণেই তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।
দুই তারকার খেলার ধরণ আলাদা হলেও লক্ষ্য এক—নিজ নিজ দলকে ফাইনালে তোলা। তাই এই ম্যাচে দলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও হতে পারে ফল নির্ধারণের বড় নিয়ামক।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর মেসি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন তিনি। তার মতে, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা সব সময়ই বিশেষ।
মেসি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার স্মরণীয় পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। তবে বর্তমান দল অতীতের স্মৃতিতে নয়, নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিচ্ছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও শেষ চারে জায়গা করে নেওয়াকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছেন, দল আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামবে। আর্জেন্টিনাকে সম্মান জানালেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কেইনের মন্তব্য, এটি কোনো একক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। বরং পুরো আর্জেন্টিনা দলকে মোকাবিলা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, কোচ টমাস টুখেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় ম্যাচে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতেই প্রস্তুত ইংল্যান্ড।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইতিহাস, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে দুই অধিনায়কের ব্যক্তিগত লড়াই। শেষ পর্যন্ত মেসির সৃজনশীলতা নাকি কেইনের গোল করার ক্ষমতা—কোনটি ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সূত্র: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম।