অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সরকারের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১ জুলাই) ইসরায়েলের গণমাধ্যম গ্যালেই ইসরায়েল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির জ্বালানি ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দুই মাস আগে গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক মাস আগে সেই হার বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছায়। বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এলি কোহেন বলেন, গাজায় হামাসকে পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, ফিলিস্তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে সম্পূর্ণ অকার্যকর করাই ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য। সে উদ্দেশ্যেই গাজার প্রতিটি অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে বিস্তৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থামবে না। ইসরায়েল সরকার হামাসকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, মানবিক সংকট এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
সূত্র: আল জাজিরা।