শিরোনাম :
সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল অরুণাচল: আকাশপথে বিপুল আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করল ভারত অগ্রহায়ণের আগেই পঞ্চগড়ে শীতের পদধ্বনি: তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামল ১৫.৪ ডিগ্রিতে কক্সবাজার পর্যন্ত ছুটল মহানগর এক্সপ্রেস: ঢাকা ও মধ্যবর্তী জেলাবাসীর সৈকতযাত্রায় নতুন দিগন্ত টানা তিনবার কোপা ট্রফি জয়: ফুটবলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফনে বাধা ও গার্ড অব অনার অবমাননা: জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু: টোকিওতে সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক হেব্রনে চতুর্থ দিনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান: বাস্তুচ্যুত ২৬০০ ছাড়াল, গ্রেপ্তার ৭০ পারস্পরিক সুবিধা ও আস্থার ভিত্তিতে বহুমুখী সহযোগিতা গভীর করছে চীন ও বেলজিয়াম উত্তেজনার মুখে গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পসারীর দাফন সম্পন্ন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়া, প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয়ে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয় প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয় এবং আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে মন্তব্য, ১৯ জুলাই গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণ, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ, আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য, ১৪-দলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। এছাড়া আদালতে ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি আলামত উপস্থাপন করা হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষের পক্ষে দুইজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার পুরো বিচারপর্বে ইনু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগগুলোকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। পাশাপাশি নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তবে দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি কুষ্টিয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD