কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কিউবা শিগগিরই পতনের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এসব বক্তব্যে লাতিন আমেরিকাজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নেতৃত্বকে আক্রমণ করে বলেন, কলম্বিয়া একজন ‘অসুস্থ মানুষের’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় তিনি পেত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন উৎপাদন ও সরবরাহের অভিযোগও তোলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে এবং কলম্বিয়াও একইভাবে ‘অসুস্থ অবস্থায়’ আছে। তাঁর ভাষায়, কলম্বিয়া এমন একজন নেতার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে দেওয়া হবে না।
এক পর্যায়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ কি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার কাছে এটা ভালোই শোনাচ্ছে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হুমকির শামিল।
কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে, কারণ কিউবা নিজস্ব দুর্বলতার কারণেই ভেঙে পড়তে পারে। তাঁর দাবি, কিউবা এখন পতনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবার কার্যত কোনো আয় নেই। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, এই বাস্তবতায় কিউবা দ্রুত ভেঙে পড়ার পথে এগোচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু কিউবান–আমেরিকান এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট হবেন। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ওয়াশিংটনের আগ্রাসী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।