ইদ্রিস আলম: রাজধানীতে দিনে প্রচণ্ড তাপদহ। রাতে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল ঝড়োবৃষ্টি। এই ঝড়োবৃষ্টি কারণে হাটগুলোতে বৃষ্টিরোধক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে রাখাল ও ব্যবসায়ীদের থাকার প্রচুন্ড কষ্ট হচ্ছে বলে যানান দেয় তারা। এদিকে হাটগুলোতে বৃষ্টির পানি আর পশুর মলমূত্র একসঙ্গে মিশে কাদামাটির সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নোংরা পরিবেশ।
রোববার ভোরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাটে এই বৃষ্টিতে শতশত পশু ভিজেছে। ব্যসায়ীরা পলিথিন দিয়ে বৃষ্টি নিবারণের চেষ্টা করলেও ঝড়ো বাতাসের কারণে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর পশু বৃষ্টিতে ভিজেছে।
তাদের অভিযোগ, ইজারা শর্ত অনুযায়ী হাটে ভালো ছাউনির ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও, তা না দেয়ায় পশুগুলো বৃষ্টিতে ভিজেছে। এর আগে দিনের প্রচুন্ড গরমে বেশ কিছু গরু অসুস্থ হয়ে। আবার কয়েকটি গরু মারা যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে।
তবে হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ছাউনি তৈরি করে দিতে। তবে যে পরিমাণ গরু, তা হাট ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। সে কারণে সব জায়গায় আমরা ছাউনি দিতে পারিনি।
এবার রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার কোরবানির পশুর হাট বসেছে ২৫টি। এর মধ্যে দক্ষিণের ১৫টি ও উত্তরের ১০টি হাট রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলো হলো- উত্তরা ১৫ নং সেক্টর, ৩০০ ফুট সড়কের উত্তরে বসুন্ধরা হাউজিং, খিলক্ষেত বনরুপা, ভাটারা (সাইদ নগর), আফতাব নগর, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক, মিরপুর সেকশন-০৬ ইস্টার্ন হাউজিং, মিরপুর ডিওএইচএস উত্তরের খালি জায়গা ও উত্তর খান মৈনারটেক শহীদ নগর হাউজিং।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর বালুর মাঠ, মেরাদিয়া, উত্তর শাহজানপুর, কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশের জায়গা, ঝিগাতলা, রহমতগঞ্জ, কামরাঙ্গীচর, আরমানিটোলা, ধূপখোলা, পোস্তগোলা, দনিয়া কলেজ, শ্যামপুর ও ধোলাইখাল।
জানা গেছে, পুরোদমে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। হাটগুলোতে প্রায় ১৪ লাখ গরু ওঠেছে।ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্য বসানো হয়েছে বুথ।