শিরোনাম :
সন্ধ্যা নামে যে হেথা লন্ডনের উপকণ্ঠে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত চালক – আহত ৮৯ নাইজারের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ৩৫ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রশাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বৈশ্বিক প্রশাসন উন্নয়নে চীনের উদ্যোগ: আগ্রহী আন্তর্জাতিক সমাজ জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা জোরদারে চীনের আহ্বান প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে গড়ে উঠবে ম্যাথ ল্যাব তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর দুর্যোগ প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে আইআরসির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে আগ্রহ বাংলাদেশের

সম্পাদকীয়: পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্ব-নীরব দর্শকের ভূমিকায় সরকার

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

সম্পাদকীয় :বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আজ কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন। চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ,- কোনোটির দামই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। বাজারে গেলে ক্রেতার চোখে ভেসে ওঠে অসহায়ত্ব আর হতাশা; অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায়। প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সত্যিই বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম, নাকি এই ব্যর্থতা এখন স্বীকৃত বাস্তবতা?

প্রতিবার মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একই যুক্তি তুলে ধরা হয় আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট, যুদ্ধ কিংবা জলবায়ু পরিস্থিতি। এসব কারণ আংশিক সত্য হলেও, পুরো দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমে, তখনও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। এতে স্পষ্ট হয়, সমস্যার মূল শিকড় দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায়।

বাজার সিন্ডিকেট এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা মূলত লোক দেখানো ও ক্ষণস্থায়ী। জরিমানার অঙ্ক এতই নগণ্য যে, তা সিন্ডিকেটের জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। বরং অভিযানের পরই অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল। বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট। একদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর—কেউই কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারছে না। এর ফলে বাজার ব্যবস্থাপনা নীতিগতভাবে নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সীমিত আয়ের মানুষ প্রতিদিন হিসাব কষে বাজার করছে, পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির এই চাপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব শুধু আশ্বাস দেওয়া নয়, বরং কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্বচ্ছ আমদানি নীতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পণ্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সরকারের প্রতি জনআস্থাকে আরও ক্ষয় করবে।

রাষ্ট্র যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এখনই সময়, নীরব দর্শকের ভূমিকা ছেড়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। নচেৎ বাজারের এই অরাজকতা শাসনব্যবস্থার ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD