বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি-২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের কঠোর বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ সমাপ্তি ঘটেছে এক মনোমুগ্ধকর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে। সোমবার পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন এবং পরে কৃতিত্ব অর্জনকারী নাবিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আইএসপিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বি-২০২৫ ব্যাচের মধ্যে রিজান মোল্যা সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করে ‘নৌপ্রধান পদক’ অর্জন করেছেন। এছাড়া মো. মারুফ হাসান মুন্না ‘কমখুল পদক’ এবং মো. হাসান আলী ‘শের-ই-বাংলা পদক’ জিতে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
দীর্ঘ ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এ ব্যাচের ৪১৭ জন নবীন নাবিক আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। জাতীয় পতাকায় হাত রেখে তারা দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের শপথ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ভাষণে নৌবাহিনী প্রধান প্রথমেই স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নৌ কমান্ডোদের ত্যাগকে। পাশাপাশি তিনি জুলাই–আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হওয়া সকলকে শ্রদ্ধা জানান। নতুন নাবিকদের উদ্দেশে তিনি দেশের সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদের গুরুত্ব এবং নৌবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা থেকে শুরু করে দেশের সংকটময় সময়ে জননিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর দায়িত্ব এখন অনেক বেশি। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া পেশা হিসেবে দেশের সেবা বেছে নেওয়ায় নবীন নাবিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ নাবিকরাই দেশের বিস্তৃত সমুদ্রসীমা রক্ষায় এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
জাঁকজমকপূর্ণ এ কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।