ইদ্রিস আলম: সোমবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর ছাত্র আন্দোলনের খবর ছিল বেশ শান্ত। তবে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি লাইভে দেখা যায় রাজধানীর রামপুরায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আফতাবনগর এলাকার সামনের সড়কে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাঁচটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে শিক্ষার্থীরা আফতাবনগরে জহুরুল ইসলাম সিটিতে আশ্রয় নেয়। পুলিশও তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে মেরুল বাড্ডার দিক থেকে একদল যুবক লাঠি নিয়ে তাদের ধাওয়া দেয়।
লাঠি হাতে যুববকদের মধ্যে বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদেরও দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ সময় সেখানে দায়িত্বরত প্রথম আলোর সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় একদল যুবক। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় তারা।
পরে তাকে বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে ফোনের সব তথ্য পুলিশ মুছে ফেলে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক সুমি।
এর আগে সকালে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে গেটের সামনে ও রাস্তায় অবস্থান নেয়।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা জানান, থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে দিনভর। পুলিশ ফাঁকা গুলি করছে। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। পুলিশকে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে দেখা যায়। প্রস্তুত রাখা হয় সাঁজোয়া যান (এপিসি)। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে র্যাবের গাড়ির টহলও রাস্তায় ছিল।
এদিকে মেরুল-বাড্ডা থেকে একদল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান তারা।
এ ছাড়া রামপুরা ব্রিজের কাছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকরা মিছিল বের করলে ধাওয়া দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়।