তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপানে বৃষ্টিপাতজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা এটি; এর আগে ১৯৮২ সালে বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশটিতে প্রায় ৩০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল।
এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাদা ও ধ্বংস্তূপের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
টানা মূষলধারায় বৃষ্টিপাতে নদীতে বন্যা দেখা দেওয়ার পর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সঙ্কট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ইউরোপ সফর বাতিল করেছেন।
৩৮ বছর বয়সী কোসুকে কিয়োহারা নিজের বোন ও দুই ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে সবচেয়ে খারাপ পরিণতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।
“আমার পরিবারকে সবচেয়ে খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুত হতে বলেছি,” বলেছেন তিনি।
জাপানের পুরো পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ৭০ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার ১৫টি বিভাগজুড়ে স্থাপন করা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রবল বৃষ্টিতে নেমে আসা পানির ঢলে বাড়ি-গাড়িসহ সবকিছু ভেসে গেছে। আবাসিক এলাকাগুলো ময়লা ও পুরু কাদার নিচে চাপা পড়েছে। হাজার হাজার বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিম জাপানের কোনো কোনো অংশে পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় তার তিনগুণ বৃষ্টি হয়েছে। এখন টানা বৃষ্টিপাত থামলেও আবহাওয়া কর্মকর্তারা হঠাৎ মূষলধারায় বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।