লিটন খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের নিকট সর্ব- ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবান জানাতে গত ২৩ শে ডিসেম্বর ২০২২, জুম মিটিং-এ আলোচনা করা হয়।
জুম মিটিং-এ সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আমিনুর রহমান খসরু ও সভা পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম।
জুম মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন সর্ব- ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। আলোচনার শুরুতেই জাতির পিতাসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন সংগ্রামে আত্মাহুতি দানকারী বিভিন্ন শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রতিবাদ সভার বক্তব্যে যুক্তরাজ্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অন্যতম নেতা ও সর্ব ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কামাল দেওয়ান বলেন, একজন রাষ্ট্রদূত কোনো দলের হয় না, তিনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশের মাটিতে তাই তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা সঠিকভাবে করতে হবে।

লিটন খানের অভিযোগ ও সমালোচনা অত্যাধিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ব্যক্তি কেন্দ্রিক। আমাদের উচিত এসব ব্যাপার নিয়ে তদন্ত করে একজন ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রদূত নির্দোষ তাই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং লিটন খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করার গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারকে অনুরোধ করছি।
অস্ট্রিয়া থেকে সর্ব-ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি জনাব বায়েজিদ মীর বলেন, একজন সাংবাদিকের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু যারা কুৎসা রটনা করে এবং বিভিন্ন মিথ্যা খবর দেয় তাঁদেরকে আমাদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে। লিটন খান নামের তথাকথিত এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আমাদের আইননানুগ ব্যববস্থাগ্রহণ করার জন্য জার্মান ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
সুইডেনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, জার্মান ও সর্ব- ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব শামসুল আলম বলেন, লিটন খানকে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে সৎ ও কর্মঠ ব্যক্তিবর্গ যেন নির্দ্বিধায় কাজ করতে পারে। তিনি তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। সুইডেনে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ও সর্ব ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গোলজার মিয়া বলেন, নির্দোষ রাষ্ট্রদূতের প্রতি এ ধরনের কুৎসা রটনা কখনোই সহ্য করা যায় না। যদি এটাকে চলতে দেওয়া হয় তাহলে এ সমস্ত ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। অতএব আমাদের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্রামূলক উপস্থাপনা কখনোই সহ্য করব না। তিনি বলেন আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না, তাই আমরা বাংলাদেশ ও জার্মানির সরকারকে অনুরোধ করছি তারা যেন ব্যাপারটা তলিয়ে দেখে।
দোষী লিটনকে আইনের আওতায় আনবার পক্ষে তাঁর মতামত প্রদান করেন।
সর্ব- ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের
সহ-সভাপতি ফ্রান্সে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা জনাব জামিল মিয়া বলেন, গণতন্ত্রের নামে যারা মিথ্যা প্ররোচনায় লিপ্ত থাকে তাদেরকে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। লিটন খানের এ ধরনের মিথ্যা প্ররোচনা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। আমরা সর্ব ইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করছি অবিলম্বে এই দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সর্বইউরোপীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সেক্রেটারি জনাব আব্দুল কাদের। লন্ডনের প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ -সভাপতি আব্দুর রহমানসহ বাংলাদেশ জার্মানির বিভিন্ন খ্যাতনামা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালনকৃত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।