শামীম খাঁন, মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুকে ঘরে আটকিয়ে স্বামী, শশুর, শাশুড়ী ও নোনদ মিলে রাতভর নির্য়াতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় গৃহবধুর পিতা মোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাজীরবেড় ইউপির নতুন কোলা গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের স্বামী পরিতাক্তা কন্যা মোছাঃ রুপসা খাতুন (২৪) উপজেলার এস বিকে ইউপির ভালাইপুর গ্রামের হাতেম আলী ভেনা শেখের ছেলে বউ ছাড়া এক কন্যা সন্তানের বাবা শরিফুল ইসলামের সাথে ইসলামী শরীআহ মোতাবেগ ৬০ হাজার টাকা কাবিনে গত ২০১৭ ইং সালের ডিসেম্বর মাসে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে ছেলে পক্ষ যৌতুকের দাবিতে ঐ গৃহবধুকে দফায় দফায় নির্যাতন করে আসছিল। এক পর্যায়ে যৌতুকের দাবীতে গত ৫ জুন রাত্রে স্বামী শরিফুল, শ্বশুর ভেনা শেখ, শ্বাশুড়ী হালিমা বেগম ও নোনদ শিল্পী খাতুন মিলে তাদের নিজ বাড়ীতে রুপসা খাতুনকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে মুখে গামছা ও হাত পা বেঁধে লাঠি দ্বারা শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক চোরা গুপ্ত মার ধর করে। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা মুসকিল। রাত্রে মারধরের সময় মেয়েটির আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মেয়ের পরিবারকে খবর দেয়। মেয়ের পিতা মোফাজ্জেল হোসেন মেয়ের এমন অবস্থা দেখতে পেয়ে দ্রত পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এঘটনায় মেয়ের পিতা মোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে গত ৮ জুন ৪ জনকে আসামী করে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে । অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যৌতুক লোভী স্বামী শরিফুলকে আটক করে থানা হাজতে রেখেছে বলে মেয়ে জানিয়েছে। বর্তমান মেয়েটি অসহায় অবস্থায় জীবন নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।