শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

বাংলা একটি সুমধুর ভাষা : ভাষা নিয়ে দ্বৈত মানসিকতা

পামেলিয়া খালেদ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানি, কানাডা।
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২

বাংলা ভাষা একটি সুমধুর, অনন্য ভাষা বলে পরিচিতি লাভ করেছে ভাষা জগতে! এ কথা আজ বলার বাহুল্য রাখেনা! কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী কাল থেকে কবি, সাহিত্যিক এবং সাধারন মানুষের মাঝে একটা বিরূপ মনোভাব রয়ে গেছে অন্য ভাষা থেকে শব্দ ব্যাবহারে! আপাতত কারন হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে, এ ধরনের বিরূপ মানসিকতার উদ্ভভ ঘটেছে বাংলা ভাষা র প্রতি বাঙালিদের অসীম ভালবাসা আর দরদ থেকে!

কারো কারো কাছে শুদ্ধ বাংলা, আরবি , ফারসি ব্যাবহার এর কোনটাই গ্রহন যোগ্য নয়! কারো কারো কাছে আরবি, ফারসি নামেও ( আরবি, ফারসি শব্দ ,বাক্যে, কবিতায় ব্যাবহারে) আপত্তি, তদুপরি বাংলা নামেও আপত্তি। এই মনোভাব বাংলা ভাষা র জন্য শাঁখের করাত, কারন এটি একটি বাঙ্গালি “দ্বৈত মানসিকতা” ব্যাধি হিসেবে রুপ নিয়েছে ! বাংলা লেখক দের জন্য এটি একটি ঘোরতর সমস্যা বইকি, আর কিছু নয়। এই দ্বৈত মানসিকতা বিভ্রান্তিকর!

কারণ এই ভাবনা বাংলা ভাষা সম্পর্কে মনের অনুদার রূপ বহন করে। এই মন বৈকল্য মূলক অবস্থান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে! আমাদের মনে রাখতে হবে ভাষা কখনো একক ভাবে গড়ে উঠেনা। বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণ ভাষা কে দুর্বল করেনা, বরং উন্নত করে। সময়ের সাথে ভাষা র রূপান্তর ঘটে। পরিমার্জিত,এবং পরিবর্তিত হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে ভাষা র যেন বিকৃতি না ঘটে! আমি এখানে অন্য ভাষা, বাংলা ভাষা কে কিভাবে সমৃদ্ধ করেছে তার ছোট্ট একটি উদাহরন দিচ্ছি-

“কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হ’ল জানি না তা’।নারঙ্গি বনে কাঁপছে সবুজ পাতা।”- কবি ফররুখ আহমেদ (সাত সাগরের মাঝি)!

নারঙ্গিবনে (কমলাবনে) কাঁপছে সবুজ পাতা। এটি একটি শক্তিশালী বাক্য, দুটি ভাষার মাধুরিতে পরিপূর্ণ! ভাল ভাবে লক্ষ করল দেখা যাবে, কবি ফররুখ আহমেদ কিভাবে তার মনের মাধুরী দিয়ে, অপূর্ব শৈল কলা পূর্ণ এই কবিতাটি লিখেছেন! কবি নজরুল এর বেশির ভাগ কবিতা তে অন্য ভাষার সংমিশ্রণ দেখা গেছে! নজরুলের ‘আলগা করো খোপার বাঁধন দিল ওয়াঁহি মেরা ফাসস্ গ্যায়ি, দুটি ভাষার মাধুরিতে পরিপূর্ণ!

ছোটবেলায় মন প্রাণ দিয়ে এই মহান কবির সব কবিতা আমি উচ্ছ্বাসের সাথে পড়তে ভালবাসতাম ! আমার আব্বা ছিলেন কবিতা প্রেমী। সবসময় শুদ্ধ উচ্চারণে কবিতা পড়তেন আর আমাদের কবিতা পড়াতেন দাড়ি, কমা সহকারে, সযত্নে! কবি ফররুখ আহমেদের কবিতা আমাদের পাঠ্য ছিল, আমাদের ভাই বোন সবাইকে উনি যত্ন করে আবৃতি করা শিখিয়েছিলেন!

জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বর্ণনা পড়ে, কবির দারিদ্র ও দুঃখময় জীবনের কথা জেনে , (অপমানজনক জীবন কাহিনী পড়ে) আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়েছে।

বাঙালি প্রচণ্ড আবেগ প্রবন জাতি, এই সম্মানিত কবিকে অসম্মান করতে সেইদিন দ্বিধা করেনি। একজন কবিকে, তাঁর লেখাকে আরবি ও ফারসি বর্ণবাদে দুষ্ট, এই মিথ্যে আক্ষা দেবার অপ প্রয়াসে, চরম দারিদ্রতায় তাঁর জীবন অবসান ঘটেছিল। এই ঘটনা বাঙালি জাতির জন্য লজ্জা! বাংলাভাষা কে সমৃদ্ধ করেছে উনার প্রতিটি কবিতা! এটি অস্বীকার করার যো নেই!! আমাদের জাতীয় কবি নজরুল এর কবিতা আরবি, ফারসি ভাষা দারা সমৃদ্ধ, তাই নয় কি? শ্রদ্ধা এই পরম পূজনীয় কবি কে।সেই সাথে ধন্যবাদ জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান (সাবেক সচিব ও অর্থনীতিবিদ) কে, কবিকে নিয়ে ভাববার জন্য!

দেখুন এই কবিতাটিতেও ইংরেজি এবং বাংলার মিশ্রণ রয়েছে। কিন্তু কবিতার মিষ্টতা এবং মান নষ্ট হয়নি !

জীবনের ঋণ!”
জড় ও জীবন পাশাপাশি করে রয় আলিঙ্গন!
বর্ণময় কবিতারা কখন, কবে যেন হারিয়ে গেছে,শুধাতে জীবনের ঋণ!

চারিদিকে মুকুট বিহিন করোনা সম্রাটের আস্ফালন,
বাতাসে মৃত্যু পরোয়ানা, তরবারি তুলে ঝংকার,
স্যালাইন, সূচ, ছুরি, কাচি এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে!
মর্গে স্তূপ হয়ে পরে আছে অগনিত লাশ!
নিকষ কালো ঘন অন্ধকারে শুধু মাকড়শা জাল বুনে চলে,
একাকী ঘর বাধবে বলে!
দুচোখ আদ্র,মন আমার অস্থির, চঞ্চল,
প্রিয়জনের মৃতের মিছিল দেখে!
বেগুনি রঙ ঘিরে থাকে অবয়বে আমার,
মৃত্যু র ছায়া আর অজানা এক বিষাদে!

আজ কেন পুষ্প কলি মেলে দেয় আঁখি তার,
ফুলের পাপড়ি দল কেন বোঝেনা, রিদয়ে বয়ে চলেছে রক্তক্ষরণ!
ভয় আর গভীর ঘুমের ছায়া প্রগারতর আমার দুচোখে!

তবুও কেন হংস মিথুনেরা খেলা করে শান্তজল আর নরম রোদের সাথে!!
হলদে, লাল, খয়েরি পাখীরা করে প্রাণের আলাপন;
জোনাকিরা আলো জালে, ঝিঝিরা শুনায় আনন্দের গান!

বসন্তের নীলাকাশ আর মেঘ লুকুচুরি করে বাতাসে, বাতাসে!
ঊষার আকাশ বয়ে আনে শুধবতার ঘ্রাণ,
আমন্ত্রণ নতুন জীবনের!

মৃত্যু ও জীবন পাশাপাশি করে রয় আলিঙ্গন!
তবুও সবুজ কচি ইউক্যালিপ্টাস, আর মৃগনাভি হরিণের দল ছড়ায় সুঘ্রাণ,
দোয়েল তুলে নতুন তান!
প্রকৃতি আর জীবনের সুললিত মধুর আবাহন!

বাংলা ভাষা নিয়ে আজ ভীতি কাজ করছে অনেকের মাঝে ।ভাষার অধিকার রক্ষা করার জন্য আন্দোলন চলছে। সব কিছুই সঠিক! আরবি, ফার্সি ,ইংরেজি, উর্দু , হিন্দি ভাষা থেকে নতুন নতুন শব্দ গ্রহণ করলে বাংলা ভাষা দুর্বল হয়ে যাবে এমনটি মনে করার কারন নেই। নতুন শব্দ গ্রহণ বৈরি নয়, বরং অন্য ভাষার আধিপত্য সম্পরকে সচেতন থাকতে হবে! নিজ ভাষায় কথা বলতে হবে, লেখতে হবে ,পড়তে হবে!

লেখক: পামেলিয়া খালেদ, শিক্ষাবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানি,নৃবিজ্ঞানি ও সমাজবিজ্ঞানি।কানাডা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD