আজ রবিবার পঞ্চগড়ে পরিবহণ সেবা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে পরিবহণ শ্রমিকরা।সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এই সড়কে অবস্থান নেয় কর্মহীন হয়ে পড়া কয়েকশ পরিবহণ শ্রমিকরা। সেখানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এ সময় করতোয়া সেতুসহ মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটক পড়ে। রমজানের মধ্যেও চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, লকডাউন শুরুর পর থেকেই তারা কর্মহীন হয়ে ঘরে পড়ে রয়েছেন। ধার দেনা করে খুব সংকটে কাটছে তাদের দিন। সরকারি ত্রাণ সহায়তাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। কেউ কেউ ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল পেলেও তা কয়েকদিনেই ফুরিয়ে গেছে। এমনকি শ্রমিক নেতারাও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, সরকার ক্রমানয়ে সবকিছু শিথিল করলেও কেবল মাত্র পরিবহণ সেবা চালু করছে না। তাই দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমিকরা ত্রান চান না, চান কাজের সুযোগ। তাই তারা অবিলম্বে পরিবহণ সেবা চালুর দাবি জানান।
আন্দোলনকারী পরিবহণ শ্রমিক খোরশেদ আলী বলেন, জরুরী পণ্য পরিবহণের নাম করে বাস ছাড়া সব যানবাহন চলছে। সরকার সব কিছু শিথিল করে দিয়েছে অথচ যাত্রীবাহী পরিবহণ সেবা বন্ধ রেখেছে। আমরা শ্রমিকরা কতো কষ্টে আছি দেখার কেউ নেই। অধিকাংশ শ্রমিক সরকারি কোন ত্রাণ পায়নি। যারা ১০ কেজি করে চাল পেয়ে তাদের তা কয়েকদিনের মধ্যেই ফুরিয়ে গেছে। তাই আমরা ১০ কেজি চালের এই ত্রাণ সহায়তা চাই না আমরা কাজের সুযোগ চাই। আমাদের পরিবহণ সেবা চালু করে দেয়া হোক।
শফিয়ার রহমান নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা এই লকডাউনের মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। ধার দেনা করে অর্ধাহারে অনাহারে কাটছে আমাদের দিন। সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাইনি। এমনকি শ্রমিক নেতারাও এই দুর্দিনে আমাদের পাশে দাঁড়ায় নি। অথচ শ্রমিক কল্যাণের নামে লাখ লাখ টাকা তুলেছে তারা।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা পাশাপাশি লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করে চলা যানবাহনগুলোর বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে দুপুর ১ টায় তারা অবরোধ তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, শ্রমিকরা পরিবহণ চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। কিন্তু আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া তা সম্ভব নয় বলে তাদের জানাই। তারা দাবি তোলে লকডাউনের মধ্যেও অনেক যানবাহন চলছে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে লকডাউনের মধ্যেও নির্দেশনা অমান্য করে যেসব যানবাহন চলবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যেসব শ্রমিক ত্রাণ সহায়তা পায় নি সোমবার তাদের ত্রাণ দেয়া হবে। পরে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
উল্লেখ্য , শ্রমিকদের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়ায় নি শ্রমিক নেতারাও।