বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে আগামী ১১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মালয়েশিয়ার রয়েল চুলান কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘চতুর্থ শোকেস বাংলাদেশ-গো গ্লোবাল’। এতে বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শনী, সেমিনার, বি-টু-বির আয়োজন করে । যৌথ উদ্যোগভিত্তিক এফডিআই আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এ শোকেসে উভয় দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে আমাদের এ উদ্যোগ। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২৫২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, আমরা প্রতি বছর গড়ে ২০ শতাংশ হারে এটা বাড়াতে চাই। আমাদের শো-তে বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, আগ্রহী বিনিয়োগকারী, মালয়েশিয়ার সরকারি সংস্থাগুলো অংশ নেন। বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পণ্য প্রদর্শন হয় ।
অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা দেখলেন এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা করার খরচ কত কম! যেখানে কুয়ালালামপুরে ব্যবস্থাপনা খরচ ৩৪৫ মার্কিন ডলার সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ১১ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে একজন কর্মীর বেতন যেখানে ১১০ মার্কিন ডলার সেখানে চীনে ৩৪৫ মার্কিন ডলার। কীভাবে বাংলাদেশ পণ্য ডিউটি ফ্রি, কোটা ফ্রি সুবিধা নিয়ে পৌঁছে গেছে ইউরোপ ও বড় বাজারগুলোতে। বিনিয়োগের জন্য এসব মিরাকল দেখে মুহূর্তে পাল্টে গেল উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মন, করলেন মন্তব্য, দ্বিধা ছাড়াই বললেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে, সামনে আরও এগিয়ে যাবে।
এদিকে বিএনপির মালয়েশিয়ার কিছু নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। নিজেদের কে দাবি করেন এমন মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন ও মালয়েশিয়া বিএনপির সিনিয়র সহ – সভাপতি মাহাবুব আলম সাহা উক্ত অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করছেন মালয়েশিয়া বিএনপির নেতা কর্মীরা । উক্ত অনুষ্টানে এই দুই নেতা কে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদের সাথে একান্ত আলাপ করতে দেখা গেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এতে করে দল ধ্বংসের অপ-তৎপরতার অভিযোগ করেছে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ না করে বিএনপিকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়া বিএনপির কর্মীরা।
মালয়েশিয়া বিএনপির এক কর্মী আমজাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “এইসব নেতারা হলো বিএনপি নামধারী ব্যবসায়ী, কিছু বিএনপির গাদ্দার দালাল , যারা রাতের বিএনপি, দিনের আওমীলীগ ,যারা আওমীলীগের পা চাটা কুত্তা, তাদের নাকি বিএনপি হাই কমান্ড থেকে পদায়ন করা হয়েছে এবং গত ভোট ডাকাতি নির্বাচনে আমাদের প্রানপন নেতা ডঃ মিলন সাহেবকে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দিয়ে কচুয়া উপজেলা থেকে মোঃ মোশারফ হোসেন এর মতো গাদ্দার কে নির্বাচন করতে দিয়েছিলো বিএনপি কেন্দ্রীয় থেকে।”

এই বিএনপি কর্মী আমজাদ হোসেন অনুরোধ করে বলেন “যারা বিএনপি কে ভালবাসেন ,জিয়াউর রহমানকে ভালবাসেন ,খালেদা জিয়াকে ভালবাসেন , তারেক জিয়াকে ভালবাসেন তারা সবাই দাবি তোলেন কেন্দ্র থেকে এদের কে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হোক এবং এই গাদ্দার নেতারা যেন আর কোনো দিন বিএনপি করতে না পারে।”
মালয়েশিয়া বিএনপির আর এক কর্মী মনির হোসেন বলেন ,”আর একজন দাতু লিটন সাহেব বিএনপির সহ সভাপতি, ইনারা দুই টাকার লোভ সামলাতে পারে না আবার বিএনপির নেতা বলে দাবি করেন। এইসব নেতারা অবৈধ সরকারের মন্ত্রীদের সাথে কদম মুচি করতে গেছে দেখা গেছে, যাতে করে কলিং এর কাজ করার বাংলাদেশ থেকে লোক এনে তাদের সর্বনাশ করতে পারে। বিএনপি করতে গেলে কলিজা লাগে ,বিএনপি করতে গেলে ধর্য্য লাগে। ত্যাগ আছে যাদের তারাই বিএনপি করতে পারে। ”

মালয়েশিয়া বিএনপির কর্মী মিজানুর রহমান বলেন ” মালয়েশিয়া আওমীলীগের উপদেষ্টা পান্নাকে মাঝখানে বসিয়ে মোঃ মোশারফ হোসেন ও মাহাবুব আলম সাহা দুই পাশে বসে, এই পান্না আওমীলীগের বিভিন্ন সভায় জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমান কে বাজে ভাষায় গালি দেই সেটা সবাই জানে। সেই পান্নাকে মাঝেখানে বসিয়ে ওনারা দুই জন দুই পাশে বসে কি ভাবে? এইসব দালাল নেতারদের জন্য আজ বিএনপির এই খারাপ অবস্থা। এইসব দালালি নেতাদের এখনই বহিষ্কার না করলে বিএনপির দিন দিন আরো ভরা ডুবি হবে।” মালয়েশিয়াতে বিএনপির নেতা কর্মী আছে লক্ষাদিক , তাদের সবার দাবি মোঃ মোশারফ হোসেন ও মাহাবুব আলম সাহাকে বিএনপির কেন্দ্রে থেকে সারাজীবনের জন্য বহিষ্কার করবে এটাই সবার দাবি ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালয়েশিয়ার ডেপুটি ইন্টা: ট্রেড মিনিষ্টার অং কিয়াং মিং বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ আর পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল। বর্তমান নেতৃত্ব, সরকারে দূরদর্শী পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। দুই দেশের প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেন।