শারীরিক অক্ষম বা প্রতিবন্ধী, বয়স্ক মানুষ, গর্বভতি নারী অথবা শিশুদের জন্য উন্নত ও সভ্য সমাজে অগ্রাধিকারমূলক সকল স্থানে প্রবেশের ও চলাফেরার ব্যবস্থা থাকে। মানবিক বিবেচনায় তাহা অত্যাবশ্যকীয় একটি কাজ, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য। সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত কল্পে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চ্যালেঞ্জ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য। কিন্তু উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে এই বিষয় গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে ও মান্য করে।
ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট, রাস্তা ঘাট, বাস ট্রেন ট্রাম বা মেট্রো, অফিস আদালত, ব্যাংক বা বীমা সকল স্থানে এসকল মানুষ অগ্রাধিকার মূলক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। চলাচলের জন্য থাকে বিশেষ ব্যবস্থা ও আলাদা লাইন এবং সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষ এসব মানুষের অধিকারের প্রতি যথাযত সম্মান প্রদর্শন করে। কোথাও তাদের অধিকার খর্ব করে না। বরং নিজেদের অধিকার ছেড়ে দিয়ে এসব মানুষের প্রতি যত্নবান হয়। আর এটিই হলো একটি শান্তিপূর্ণ দেশের নাগরিকের মানবিক ভূমিকা।
উন্নত বিশ্বে এমন উদার সমাজ কিন্তু আপনা আপনি সৃষ্টি হয়নি বরং তা আইনের দ্বারা সুরক্ষিত যা সকলে সম্মান ও মান্য করে। কেননা কোন না কোন সময় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আমাদের যে-কেউ হতে পারে। আজ আমি সুস্থ সবল ও যোয়ান কিন্তু কিছু দিন পরে আমিও বৃদ্ধ হব বা আমার ও মা বোন সহ পরিবার পরিজন আছে যাদের ঘরের বাইরে সুরক্ষা প্রয়োজন। তাই আগে রাষ্ট্র আইন করেছে ও জনগণ তা অনুসরণ করে যাচ্ছে একটি সুখী ও নিরাপদ সমাজ ঘটনের লক্ষে।
আমাদের দেশের রাস্তা ঘাট, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা বা বিপনি-বিতানে কিংবা হাসপাতালে এখনো এসমস্ত মানুষের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনা। বরং বলা চলে অনেক ক্ষেত্রে এদের অধিকার উপেক্ষিত এবং আমরা যারা সুষ্ঠু সবল আছি তারা ওদের অধিকার খর্ব করি। এখনো আমরা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংস আচারণ করি নানান ক্ষেত্রে আর অক্ষম ও বৃদ্ধাদের জন্য বিশেষায়িত চলা ফেরার কোন ব্যবস্থা একে বারে নেই বল্লেই চলে।
বেশির ভাগ সড়ক এখনো প্রতিবন্ধী বান্ধব হয়নি। তাছাড়া বাস, ট্রেন বা লঞ্চে নারী ও শিশুদের সংরক্ষিত আসন গুলো প্রায় সময় সুষ্ঠ স্বাভাবিক মানুষ দখল করে বসে থাকে। আমাদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার অভাবে এসকল মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এসমস্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই।
মধ্য আয়ের দেশ হতে সকল শর্ত আমরা পূরণ করেছি ইতিমধ্যে তাই রাষ্ট্রের প্রতি সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দায়িত্ব আরো তরান্বিত হলো। বিশেষ করে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তাহলে সম অধিকার ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা উচু করে দাড়াতে পারবো অতিশীঘ্রয়।
আমরা যারা সুষ্ঠ সবল সাধারন মানুষ আছি সবাই এসমস্ত মানুষের প্রতি আরো যত্নবান হলে দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবো। তৈরি হবে সমতার ও শ্রেনী বিহীন এক বাংলাদেশের আর জয় হবে মনুষ্যত্ব ও মানবতার।
মোঃ রাসেল আহম্মেদ
শিক্ষার্থীঃ নোভা বিশ্ববিদ্যালয়
লিসবন পর্তুগাল