শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

মালয়েশিয়াতে অবৈধ বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

মালয়েশিয়া থেকে মোঃ মনিরুজ্জামান : মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটককৃত শত শত বাংলাদেশী কর্মী দেশে ফেরার জন্য প্রহর গুনছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কারাগারগুলোতে অবৈধ বাংলাদেশী কর্মীরা দীর্ঘ দিন যাবত অবস্থান করছে। প্রতারণা, পতিতা ব্যবসা, সুদ, জুয়া, জালিয়াতি, অপহরণ, ধর্ষণ, দালালী, ঘুষ-দুর্নীতি, মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন প্রবাসীরা। প্রতিদিনই পুলিশ আটক করে শ্রমিকদের।

পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট না থাকা, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করা, ওয়ার্ক পারমিটের অবৈধ ব্যবহার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তারা আটক হন। এদের মধ্যে অপরাধ প্রমাণিত না হলে পুলিশ ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়া হয়, আর প্রমাণিত হলে মুখোমুখি হতে হয় আদালতের।

গত কয়েক মাস ধরেই মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে । এ বছরেও এ পর্যন্ত আটক হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার বাংলাদেশী। বছর দুয়েক আগে অবৈধ শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন করে বৈধ হবার একটি সুযোগ দিলে তাতেও তালিকাবদ্ধ হয়েছে বহু মানুষ। কিন্তু দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে সেখানেও প্রতারিত হয়েছে বহু বাংলাদেশী।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশটির ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে মালয়েশিয়ান আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকা, পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সাগর বা স্থলপথে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশ গ্রেফতার করে বিচার ও জেল শেষে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য রাখা হয় দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পে। মালয়েশিয়াতে এইসব আটক করা অবৈধ বাংলাদেশী কর্মীদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এদিকে মালয়েশিয়ার লেংগিং ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো. জহিরুল ইসলাম। ২১ জুন শুক্রবার ক্যাম্প পরিদর্শনের আগে সকাল সাড়ে ১০টায় নেগরি সেম্বিলান ইমিগ্রেশন বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর ও লেংগিং ক্যাম্পের কমান্ডার জুরাইন বিন মো. ইদ্রিছের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

 

সাক্ষাত শেষে তিনি বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বন্দিদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, দূতাবাসের শ্রম শাখার কল্যাণ সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ও লোকমান আহমদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নেগরি সেম্বিলান ইমিগ্রেশন বিভাগ ও লেংগিং ক্যাম্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ক্যাম্পে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে পাঠানো এবং অহেতুক বাংলাদেশি কর্মীদের হয়রানি না করার আশ্বাস দেন কামান্ডার জুরাইন বিন মো. ইদ্রিছ। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বাংলাদেশিসহ ৯ হাজার ৬৫৪ জন বন্দি রয়েছেন। এসব বন্দিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বিভিন্ন কারাগার ও ক্যাম্পে যারা আটক আছেন, তাদের বেশিরভাগই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ধারা ৬ (১) সি/১৫ (১) সি এবং পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬-এর ১২ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উপদেষ্টা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন,” দূতাবাসের কর্মকর্তারা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে ছুটে যাচ্ছে । ক্যাম্পে বাংলাদেশি কর্মীদের শনাক্ত করে দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” জেলে বন্দিদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, “প্রতিদিন কোনো না কোনো অভিযানে আটক হচ্ছেন প্রবাসীরা। তবে সংখ্যা বলাটা কঠিন। প্রত্যেকটি ক্যাম্পে কতজন বাংলাদেশি আটক রয়েছে তাদের তালিকা দ্রুত মিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ক্যাম্প থেকে যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

শ্রম প্রথম সচিব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল জানালেন,  “দূতাবাসের শ্রম শাখার সচিবরা প্রত্যেকটি বন্দিশিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশিদের  শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ক্যাম্প থেকে তালিকা দিতে এক থেকে দুই সপ্তাহ বিলম্ব হওয়ায় দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস ইস্যু করতে সমস্যা হয়। আবার ক্যাম্প থেকে তালিকা পাঠানো হলেও ব্যক্তির ফরম থাকে না। পরে ক্যাম্পে যোগাযোগ করে তা নিয়ে আসতে হয়। তারপরও দ্রুত বন্দিদের দেশে পাঠাতে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি।”

বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অস্থায়ী ট্রাভেল পাস ইস্যু করে করা হচ্ছে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে বিমান ভাড়া বহন করতে হয়। যাদের কেউ নেই অথবা টিকিটের ব্যবস্থা হচ্ছে না তখন দূতাবাসের পাশাপাশি জনহিতৈশী কাজে নিয়োজিতদের সহযোগিতায় বিমান টিকিট দিয়ে তাদের দেশে পাঠানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD