সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার নাউটানা খালের বাঁধ ভেঙ্গে টাংগুয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করে। এতে প্রায় ৪ হাজার একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। হাওরের বোরো ধান কাটতে না পারায় কৃষকদের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঐ বাঁধের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজির হোসেন ফেসবুকে এক পোস্টে মন্তব্য করেন, এখনও তো প্রশাসন উদ্যোগ নিলে বাঁধ বাঁধা সম্ভব হবে।
খবর পেয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূনেন্দ্র দেব বৃহস্পতিবার সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ভাঙ্গা বাঁধের পাশে মাছ ধরার সময় এক জেলেকে আটক করে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে অজ্ঞাত ব্যাক্তিরা এই বাঁধটি কেটে দেয়ায় কারণে বৃহস্পতিবার সারাদিন ও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হাওরে পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করে।
ইতোমধ্যে হাওরের ৪ হাজার একর জমির প্রায় ৪০ভাগ বোরো ধান পানির নিচে চলে গেছে। বৈরী আবহাওয়ায় নদীতে পানি বাড়ছে। দ্রুত এই বাঁধটি দিয়ে পানি প্রবেশ করা বন্ধ করা না হলে টাংগুয়ার হাওরের আরো ১০টি বাঁধে আঘাত করবে। এতে ঝুঁকির মধ্যে পরবে টাংগুয়ার হাওরের এরালিয়াকোনা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানেরগুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, গলগলিয়া, টুঙ্গামারা, সুনাডুবি, শামসাগর হাওর এলাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ করে জানান, উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের স্থানীয় জেলেরা পরিকল্পিত ভাবে বান্দিয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য এই বাঁধটি রাতের আধাঁরে কেটে দিয়েছে। এর সঙ্গে টাংগুয়ার হাওরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সংশ্লিষ্টরা জড়িত আছে। তা না হলে তারা এই বাঁধ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়না কেন? এছাড়াও এই এলাকার জেলেদের সঙ্গে তাদের রয়েছে গভীর সর্ম্পক। এই বাঁধটি টাংগুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধের আধা কিলোমিটার দূরে। আর প্রায় ১০ বছরের পুরোনো। এই বাঁধে এবার ঐ কমিটির লোকজন নাম মাত্র কাজ করায় সহজেই বাঁধটি কেটে দিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী আরো জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আসছেন এই বাঁধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
এবিষয়ে টাংগুয়ার হাওরের সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধক্ষ্য খসরুল আলম জানান, কারা বাঁধটি কেটে দিয়েছে আমরা তা জানি না। তবে তদন্ত করা হচ্ছে। বাঁধটি দিয়ে পানি প্রবেশ করা বন্ধ করা প্রয়োজন। বাঁধে এবার মাটি ফেলা হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এখন ধান কেটে গোলায় তুলার কথা আর এখন হাওরেই পানিতে ডুবছে কষ্টের ফলানো ধান। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব বলেন, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।