মার্ক রায়,তুলুজ(ফ্রান্স) প্রতিনিধি:প্রায় এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে তুলুজ শহরে বাঙালি কমিউনিটির সম্মানিত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর হোসেন কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে”ভর্তা মেলা” অনুষ্ঠানটি । চলতি বছর এই ভর্তা মেলা অনুষ্ঠানটি সার্বজনীন বিজয় উৎসব বৈশাখের সাথে মিলেমিশে এক নতুন আনন্দধারা এবং উচ্ছলতার জন্ম নিয়েছে ,ফ্রান্সের তুলুজ শহরের বাঙ্গালীদের মধ্যে।

সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানান রকমের ভর্তা।ছবি-মার্ক রায়
বিদায় ১৪২৫- স্বাগত ১৪২৬ ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তাই তো সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের শিশু,নারী পুরুষরা বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে, রং বেরঙের পোশাক পরে হাজির হয়েছিল স্থানীয় একটি হোটেলের হলরুমে। যেখানে থরে থরে সাজানো ছিল হরেক রকম ভর্তা এবং বৈশাখী ইলিশ। নির্ধারিত সময়ে তুলুজ কমিউনিটি এসোসিয়েশনের সভাপতি তথা অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি -জনাব ফখরুল আকম সেলিম , সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশী প্রবাসী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন এর মাননীয় সভাপতি-জোসেফ ডি কস্তা , সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক এবং ভর্তা মেলার আয়োজক -জাহাঙ্গীর হোসেন সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ফিতা কেটে ভর্তামেলার উদ্বোধন করেন। অতঃপর পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় ,রং বেরঙের বাহারি পোশাক, বাচ্চাদের দুরন্ত ছোটাছুটি, সকলের খুনসুটিতে মনে হচ্ছিল এ যেন একখণ্ড বাংলাদেশ।

দুপুরে আহার করছেন তুলুজে বাঙালি প্রবাসীরা,ছবি-মার্ক রায়
দুপুরের আহার পর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশী প্রবাসী খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রবাস মেলা পত্রিকার তুলুস ফ্রান্স প্রতিনিধি -মার্ক রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে,বক্তব্য রাখেন ভর্তা মেলার আয়োজক এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ,উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য মোতালেব হোসেন, সহ-সভাপতি জোসেফ ডি কস্তা, কোষাধক্ষ্য তাজিম উদ্দিন খোকন, সভাপতি ফখরুল আখম সেলিম সহ অন্যান্যরা।বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন আমাদের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের অনুষ্ঠান আরো বেশি করে করা উচিত।
ভর্তা মালারে অনুষ্ঠানটি শেষ করে বৈশাখ কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত সকলেই হাজির হন পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট পার্কে।

সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।ছবি- মার্ক রায়
বৈশাখ কে স্বাগত জানাতে সমবেত কন্ঠে “এসো হে বৈশাখ এসো এসো “-গানটি মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী মিসেস রাখি, মেহেদী হাসান স্বপন, শ্রীবাস দেবনাথ সহ অন্যান্যরা। উল্লেখ্য যে স্থানীয় ভাবীদের দ্বারা তৈরিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে পিঠা ছিল বৈশাখী অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ। অতঃপর সংগঠনের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাকের চৌধুরি অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সকলের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশেষ করে ধন্যবাদ জানান স্থানীয় সাংবাদিক হোসেন মিশুক সোহেল, মার্ক রায়, এবং স্থানীয় কবি রেমন্ড ডি কস্তাকে। তিনি উল্লেখ করেন সকালের আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা থাকলে আমরা এমনি আরও অনেক বেশি বেশি প্রোগ্রাম করতে পারব।