ইদ্রিস আলম: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বেশ ক’দিনের অচলাবস্থার পর আজ সকাল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে যান চলাচল শুরু হয়েছে। এদিকে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে মহাখালী পর্যন্ত একটি লম্বা জ্যামে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এতো জ্যামের মাঝে হাতে গোনা আট থেকে দশটি গণপরিবহন বাস চোখে পরে। বাকি সবই ছিলো প্রাইভেট গাড়ী আর মোটরসাইকেল। আজও গণপরিবিহন রাস্তায় নেয় বললেই চলে।
এর আগে পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ রোববার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, সারাদেশের পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বোধ করছি। বাস চালানোর মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গেলো কয়েকদিনের তুলনায় সকাল থেকেই কিছু যানবাহন রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। তবে অনেক যাত্রী অভিযোগ করছেন, আজ সকাল থেকে কিছু গণপরিবহন চলছে। তবে তা অনেক কম বলে মনে হচ্ছে। আগের মতো এখনো পুরোপুরি বাস চলাচল শুরু হয়নি।
গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী জামিল মাহমুদ বলেন, গাবতলী থেকে গাজীপুর রুটে বসুমতি পরিবহন নেই। শিমুলতুলী থেকে আজিমপুর রুটে ভিআইপি অটোমোবাইল পরিবহনের দুই একটি বাস চলাচল করলেও বাসে উঠার সুযোগ নেই। রাস্তায় পরিবহন থেকে যাত্রীর চাপ বেশি। কেউ অটোরিকশা চড়ে গন্তব্যের দিকে ছুটছে। দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। অবশেষে বাস না পেয়ে জামালপুল থেকে ঢাকাগামী ইমাম পরিবহনে নিজের গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি, কিন্তু ৩০টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা।
এছাড়া আরেকজন যাত্রী কবিরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলা কলেজ থেকে মিরপুর ১০ যাওয়ার সময় যাত্রী বেশি থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে ঢাকাসহ বেশিরভাগ জেলায় অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনটির সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সরাসরি ধর্মঘটের কথা স্বীকার করছেন না। তারা বলছেন, আন্দোলনরত ছাত্ররা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা বাস চালাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, আমরা কাউকে গাড়ি বন্ধ করতে বলিনি। অনেক মালিকই নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাড়ি চালাচ্ছেন না। তবে কোনো ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি।