জার্মানবাংলা রিপোর্ট: উত্তরায় প্রথম বারের মতো ‘উত্তরা সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৮’ শিরোনামে আয়োজন করা হয় তিন দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিরোধে চাই সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তরা-এর আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উত্তরার রবীন্দ্র স্মরণি মুক্ত মঞ্চে তিন দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, গবেষক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তরার সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির অলমগীর, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ এবং পথ নাটক পরিষদের সাধারণ সম্পদক আহাম্মদ গিয়াস।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তরা-এর সহ-সভাপতি শফিউল গণির সঞ্চালনায় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তরা-এর সাধারণ সম্পাদক ড. সোলায়মান কবির।
উত্তরা ও ঢাকা শহরের গরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে সংস্কৃতি চর্চার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তৈরী করা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাজেট বৃদ্ধি করা, সংস্কৃতিকর্মীদের জীবনমান সুরক্ষা করার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করার জোর দাবী জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। সংস্কৃতিচর্চাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর সুরক্ষায় বাজেট প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা। সভাপতি মিজানুর রহমান আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, উপস্থিত দর্শকশ্রোতা ও অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পী কলাকুশলী এবং উৎসবের সহযোগীতা করার জন্য সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলোচনার সমাপ্তি করেন।
উদ্বোধনী আলোচনা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ ও বর্নাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্ব। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সহ সভাপতি, শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান, এম.এ রাকীব, নমিতা দেববর্মা সাথী, অগ্নী অতুলনীয়া নূর, একক আবৃত্তি করেন ডালিয়া আহমেদ, মাসকুরে সাত্তার কল্লোল, আহসান উল্লাহ তমাল, ফারজানা মালিক নিম্মী, আশরাফ-উল-আলম সবুজ, সৈয়দ এরশাদুল হক মিলন, দীপক ঘোষ, মুনিরুল ইসলাম, শফিউল গণি, সুমতি পাল, রাজিয়া জামান নাফিসা, রায়হান নাফিস, দলীয় আবৃত্তি করেন কবিতাশ্রম, দলীয় সংগীত পরিবেশনা করেন প্রার্থনা ললিতকলা একাডেমী উত্তরা ঢাকা, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন তাল কালচারাল সোসাইটি, নুপুর নৃত্য একাডেমী, আনন্দধারা, মূকাভিনয় করেন মাইম আর্ট ইউনিট, নাটকের দল গতি থিয়েটারের উপস্থাপনায় ছিলো নাটক “মামার আগমন”, কাব্যবিলাশের নাটক “হয়ে গেলো নির্বাচন”। প্রতিদিন বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এই সাংস্কৃতিক উৎসব চলে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।