রাজনীতির অনিশ্চয়তা কাটেনি, আস্থা ফেরেনি অর্থনীতিতে
– সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা আসেনি। সংস্কারের মূল বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো ঐক্যের লক্ষণ নেই। সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং আর্থিক খাত সংস্কার নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
অর্থনীতিতেও স্বস্তির দেখা মিলছে না। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যপণ্যের বাজার এখনো চড়া। ব্যাংক খাত রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, তারল্যের অভাব নেই, ঘাটতি আছে আস্থার। বাজারে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার নিট উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও তা বিনিয়োগে ব্যবহার হচ্ছে না। এর কারণ, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ না থাকা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের চাপ।
বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর দুরবস্থার কারণে ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, ফলে নতুন বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থান বাড়ছে না। গার্মেন্টস, ওষুধসহ বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে। রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণের কারণে ডলারের চাপ কিছুটা কমেছে, টাকার মান কিছুটা বেড়েছে। তবে এই ধারা টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমদানি ও বিনিয়োগের গতিপথের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এই স্থবিরতা কাটাতে হলে প্রয়োজন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন হয়, তবে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।