আবু সাইদ,রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃযাদের হাত ধরে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, যারা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি হানাদারদের পরাজিত করে স্বাধীনতার সূর্যকে বাংলার করে নিয়েছেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে তথ্যভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। এজন্য জেলার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ গ্রহণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ছাপের পাশে তাদের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত থাকছে। প্রথম ধাপে সদর উপজেলার তালিকাভুক্ত সব জীবিত মুক্তিযোদ্ধার হাতের ছাপ নেওয়া শেষে আজ মহান স্বাধীনতা দিবসে (২৬ মার্চ) এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
২৬ মার্চ দুপুরে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া কুড়িগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথার তথ্যভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ ‘বীরগাথা’র মোড়ক উন্মোচন করেন এর উদ্যোক্তা এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।
আজ বুধবার রৌমারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রৌমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের জীবিত ৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুইটি ইউনিয়নের ৬৮ জনের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৪৭ জন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা আছে।
এই কর্মসূচিতে একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার ছবি সহ সংক্ষিপ্ত জীবনী স্বাক্ষর ও হাতের ছাপ সংরক্ষণ করা থাকবে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ ও ছবি সংরক্ষণের নাম দেওয়া হয়েছে বীরগাঁথার।এর ৬ টি কপি করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া হবে ১ কপি অবশিষ্ট ৫ কপি উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে সংরক্ষিত থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করার বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন,এটি আমাদের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের উদ্যোগ। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব তাদের স্মৃতি ধরে রাখতেই তাদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হচ্ছে।একসময় মুক্তিযোদ্ধা’রা আমাদের মাঝে থাকবেনা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন এই বীর যোদ্ধাদের জীবনী সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের ছবি দেখতে পারে এজন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
রৌমারী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে এটার ফলে আমাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ থাকবে । বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম সহজেই আমাদের ৯ মাসের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে জানতে পারবে এর মাধ্যমে।