জার্মানবাংলা ডেস্ক: মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শীর্ষ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সেনাবাহিনীর এক জেনারেলও রয়েছেন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
একটি বার্তা সংস্থা বলছে, মিয়ানমারের সাত সেনাকর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউ। একই সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি, ইইউতে প্রশিক্ষণ অথবা পারস্পরিক সহযোগিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রায় সহযোগিতার লক্ষ্যে ২০১২ সালে মিয়ানমারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল ইইউ।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। জাতিসংঘ রাখাইনে সেনা অভিযানকে জাতিগত নিধনে পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ বলে চিহ্নিত করেছে। তবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে মিয়ানমার।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের জেরে গত বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চল রাখাইনের কমান্ড প্রধান মেজর জেনারেল মং মং সোয়ে মার্কিন ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন। গত বছরের শেষের দিকে তাকে রাখাইন থেকে প্রত্যাহার করে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী।
আরও পড়ুন : সেনাবাহিনীর প্রতি দুর্বলতার অভিযোগ অস্বীকার করলেন সু চি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সময় রাখাইনে পশ্চিমাঞ্চল কমান্ডের অভিযানের সময় চালানো নৃশংসতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী এই কর্মকর্তা। এইট সিকিউরিটি পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার থ্যান্ট জিন ওও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যা, রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও।
দেশটির সেনাবাহিনীর আরো পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউ; যাদের সবাই জেনারেল পদমর্যাদার।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডাও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই সময় রাখাইনের ইনদিন গ্রামের ১০ রোহিঙ্গাকে কুপিয়ে হত্যার পর গণকবর দেয়ার খবর প্রকাশ করে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। রাখাইনের উগ্রপন্থী বৌদ্ধ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।