মালয়েশিয়ার নতুন সরকার দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার সময় ৩০ জুনের পরে আর বাড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ১ জুলাই থেকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরু হবে।
আজ থেকে কুয়ালালামপুর কোতোয়ারা এলাকাসহ ও আশপাশের এলাকা থেকে আরো অর্ধশতাধিক শ্রমিককে আটক করা হয়।শুধু বাংলাদেশী নয়, অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকও ধরা পড়ছে।
মাইজি’ ও দালালদের খপ্পরে পরে কয়েক লাখ অবৈধ বাংলাদেশী এখনো বৈধতা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বৈধতা লাভের প্রতিশ্রতি দিয়ে দালাল চক্র অবৈধ কর্মীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্ত অধিকাংশ অবৈধ কর্মীর ভাগ্যে বৈধতার কাগজপত্র মেলেনি। এসব অবৈধ বাংলাদেশী কর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। মালয়েশিয়া সরকারের রি-হায়ারিং প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নিবন্ধিত হয়েছেন। কিন্তু আনুসাঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করেননি বা বৈধ হওয়ার জন্য অনেকে দূতাবাসের পরামর্শ না নিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়েছেন তারাই সমস্যায় পড়ছেন। মালয়েশিয়া থেকে একাধিক সূত্র এতথ্য জানিয়েছেন।
দেশটির অভিবাসন বিভাগ বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অভিবাসন সমস্যা মোকাবেলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশিসহ সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন, এসব অভিবাসীর কাগজপত্র যাচাই শেষে আটক করা হয়েছে।
সম্প্রতি পুত্রাজায়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলী বলেছেন, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া বৈধকরণ প্রকল্পে যেসব কর্মী ও নিয়োগকর্তারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের গ্রেফতারে আপোষ করবে না প্রশাসন ৷ তিনি বলেন,অবৈধ অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদে কোনো পক্ষের সাথে আপোষে যাবে না প্রশাসন ৷ তিনি আরও বলে যে, ‘মোট কতজন অবৈধ অভিবাসী মালয়েশিয়ায় আছে তা আমরা জানি না, তবে আমরা আইন প্রয়োগে দৃঢ.ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধদের ধরতে অনুসন্ধান করবো ৷
মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যে করেই হোক ৩০ জুনের মধ্যে পূর্বের আবেদনকৃত সকল বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে পাসপোর্ট বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে , কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রবাসীরা আবেদন করেও সময়মতো পাসপোর্ট পাচ্ছে না এমন অভিযোগ রয়েছে।
হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ও ২৪ জুন মালয়েশিয়ায় সরকারি ছুটি থাকলেও কুয়ালালামপুরস্থ হাই কমিশনসহ জহুর বারু, পিনাং, সেরেম্বান, ক্লাং-এ একযোগে বাংলাদেশি কর্মীদের হাতে নতুন পাসপোর্ট সরবরাহ করেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ৮১ হাজার ৩০৮ টি পাসপোর্ট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের হাতে ৭৯ হাজার ৩৩২টি পাসপোর্ট বিতরণ করেছে হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ।