”খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দুর্নীতির মামলা করেছিল সেনা সমর্থিত সরকার। সেটা ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগের ঘটনা। এ ছাড়া বিগত সেনা সমর্থিত সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছিল। আওয়ামী লীগ যখন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে”
”বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে জেলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক এই দীর্ঘদিনের দুর্নীতির মামলায় জড়িত করে ফেব্রুয়ারিতে তাকে জেল দিয়েছে সরকার”
“বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা”
“বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনাও ঘটছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে। বিরোধী দলের লোকজন স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে না। বিশেষ বাহিনীর দমন-পীড়নে ভীত-সন্ত্রস্ত অনেকে।”
“সরকার দমনপীড়ন বন্ধ না করলে সেনাবাহিনীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ”
“বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণা, বিশেষ বাহিনীর দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ”
”বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যে মানবাধিকার ভয়াবহভাবে লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিপোর্ট দিয়েছে। গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্টের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রণালয়কে তাদের কর্তৃত্ব ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টার্গেটেড অর্থনৈতিক অবরোধ (স্যাংশন) আরোপ করে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রমণ ও ব্যাংকিং খাতেও বিধিনিষেধ দেয়ার আহ্বান“
”২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগ, তারপর থেকে দেশটি কার্যত একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে”
”সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো সমালোচনা থামিয়ে দিতে সাংবাদিকদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন”
”বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে, মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে আন্তর্জাতিক মানদ- আছে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে”
সরকারি হেলমেট বাহিনী—“হাজার হাজার স্কুলগামী শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের ওপর যে দমনপীড়ন হয়েছে সে সময়কার নৃশংসতা আমরা দেখেছি। আওয়ামী লীগের যুব শাখা ওই বিক্ষোভকারীদের ওপর চাপাতি ও লাঠিসহ আক্রমণ চালায়। স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর যখন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা হামলা চালায়, তখন অনেক স্থানেই পুলিশ ছিল দাঁড়িয়ে। হামলাকারীদের অনেকে ছিলেন ‘হেলমেট’ পরা, পরিচয় লুকানোর জন্য তারা এসব পরেছিলেন”
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮: যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একটি কক্ষে আলোচনা সভায় বাংলাদেশে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের অভিযোগ তুলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অধিকারকর্মী।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি কক্ষে ওই আলোচনার আয়োজক সংগঠন ‘টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশন’র কো-চেয়ার কংগ্রেসের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের দুই সদস্য বিবৃতিতে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
‘বাংলাদেশে নির্বাচন ও মানবাধিকার’ শিরোনামের এই আলোচনার কক্ষে সম্প্রতি ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী, বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান মাহবুব সালেহ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও ছিলেন সেখানে।
আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনাও ঘটছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে। বিরোধী দলের লোকজন স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে না। বিশেষ বাহিনীর দমন-পীড়নে ভীত-সন্ত্রস্ত অনেকে।”
র্যাবের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এমনকি গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভয় আর ভীতি। ফলে সাংবাদিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।”
আলোকচিত্রী শহীদুল ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন সিফটন। নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলের ‘রেবার্ন হাউজ বিল্ডিংয়ে’ এই সভার সিফটন বলেন, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতা নেবে তাদের বৈধতা থাকবে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর রাখতেই অবাধ-সুষ্ঠু পরিবেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই কর্মকর্তা ইঙ্গিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে বাংলাদেশিদের নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।
“যারা প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘনের সাথে জড়িত, তারা শান্তিরক্ষায় থাকা উচিত নয়,” বলেন তিনি।
নির্বাচন এলেই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচন এলেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অত্যাচার-নির্যাতন আর হুমকি-ধমকির মুখে পড়েন-এটি অনেক দিন থেকেই চলে আসছে। ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা রাজনৈতিক মতলবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের ওপর চড়াও হয়।
“২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়েই বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রিস্টান আর বুদ্ধরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ব্যবসা, বাড়ি-ঘর লুট করা হয়েছে। সে সময়ের সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এমন বর্বরতা চালায়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আসন্ন নির্বাচনে যাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।”
ঐক্যপরিষদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু আক্রান্তের হার ২০১৬ সালে ছিল ১৫০০, ২০১৭ সালে ১০০০ এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এ ধরনের হামলার ঘটনা ৩৮০টি ঘটেছে।
“আমার মনে হচ্ছে সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থা সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
আলোচনার আয়োজক সংস্থার কো-চেয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি হাল্টগ্রেন এবং ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগোভার্ন এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে র্যাবের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে তারা বলেন, “এ বছর মে থেকে অগাস্টের মধ্যে ২০০ লোক নিহত হয়েছে র্যাবের হাতে।”
মাদক নির্মূলের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগও করা হয়েছে বিবৃতিতে।
এ আলোচনায় অংশ নিয়ে অপর প্যানেলিস্ট ওয়ার্ল্ড ভিশন ইউএসএ’র চাইল্ড প্রটেকশন অ্যান্ড এডুকেশন বিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লোরা ব্র্যামোন বলেন, “বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তায় আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা খুব একটা নেই। বিশেষ করে বাল্য বিয়ের ঘটনা এখনও বাংলাদেশে উদ্বেগজনকভাবে ঘটেই চলছে।
“সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। মাদক-ব্যবসার বাহনেও পরিণত করা হচ্ছে অসহায় শিশুদের। এমনকি দরিদ্র বাবা-মার সন্তানরা পাচারকারীর খপ্পড়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে সরকারসহ সকল মহলের আন্তরিকতা প্রয়োজন।”
লোরা বলেন, বাংলাদেশে আমরা কাজ করছি শিশু, পরিবার, সরকার এবং ধর্মীয় আলোচনার সঞ্চালনায় ছিলেন থিঙ্ক ট্যাংক ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’র এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোনা দেভি। সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বিবৃতির লিংকঃ
United States Congress Statement Link:
https://humanrightscommission.house.gov/…/John%20Sifton-%20…








