ঐ উঁচু স্তম্ভের উপর দাঁয়ে আছেন যিনি
তিনি হতে পারেন কোন মহা-জননী
নীলিমার দিকে তার হাতের নিশানা
হাতে জ্বলছে জ্ঞান-মশাল: সমৃদ্ধি,
স্বাধীনতার প্রত্যয় প্রতীতির অগ্নি!
একদিন সেই হাত, মাটিতে লুটিয়ে পড়বে তার মহান
মাথাটা। এ জন্য সেদিন কোন ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হবে না।
প্রেম-কাম চাষ-বাস বন্ধ থাকবে উড়াল-পাতাল সড়ক
সংস্কারের জন্য পাওয়া যাবে না, একটাও মানুষ
ভেঙ্গে পড়বে পেন্সিল বিল্ডিং, আইফেল টাওয়ার
তোমাদের আর সব বড় বড় অহংকার মানুষ!
খুলে যাবে হিংসার যতো ছিল বদ্ধ-তোরণদ্বার
তখন আলোয় ভিজে নেবে দারুণ অন্ধকার!
ডাঙার দিকে আসবে সামুদ্রিক প্রাণীকুল
দলে দলে শহর দখলে নেবে হিংস্র-শ্বাপদ
তোমাদের মহা সড়কেই হবে বংশ বিস্তার
শুয়ে বসে আলস্যে তারা করবে জীবন পার।
সাদা বাড়িটা থেকে হয় তো ঝরতে থাকবে রক্ত-
মানুষের খুলি, ইট পাথর আরও কতো কি নীল নকশা!
ক্রেমলিনে রাজ করবে ভয়ানক বিষাক্ত সর্পের বংশধর!
নিয়তি মহাকাল হয় তো খুলে দেবে সব সদর দরজা-
নিজেই ফেটে যাবে পারমাণবিক বোমাগুলো আচমকা!
তখনও ফুটবে ফুল। পাখি গাইবে তার সুমিষ্ট গান।
নদী বয়ে যাবে মৃদুমন্দ ধারায়। বসন্তের ইশারায়
ফুল তার পাপড়িতে, পাখি-প্রজাপতি তার পাখায়-
পালকে ভরে নেবে রোদ, আলোর বিচিত্র রঙ।
বাতাস নিশ্চিন্তে বাজাবে প্রাণের বাঁশি,
তখনও দাঁড়িয়ে থাকবে পৃথিবী।
আমাদের কবিতাহীন নির্মম পৃথিবী।
শুধু থকবে না মানুষ।।
মানুষের সমুখে রেখে গেছে
এই জনমানবশূন্য গোলোকটা-
মহামারির করোনা ভাইরাস!
এখানেই কি পৃথিবীর শেষ?
নাকি কি নতুন পৃথিবীর উন্মেষ, মানুষ?
০৮.০৫.২০২০