আরিফ ঢালী, বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ আশ্রয়ন-২, প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য আধাপাকা বসত ঘর নির্মাণের কাজ নিয়ে হরিলুট শুরু হয়েছে।
সরজমিনে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় এলাকা শরণখোলা উপজেলায় দু-দফায় ৬৭২ টি ঘর হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণের অনুকুলে ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঘর নির্মানে উপকরণ হিসাবে ইট, সিমেন্ট সহ অন্যান্য উপকরণ সঠিকভাবে দেয়া হচ্ছে না। বেড়া, জানালা ও দরজার জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ থাকলেও তাতেও ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা উত্তর কদমতলা, রাজৈর, আমড়াগাছিয়া, বগী, চালিতাবুনিয়া এলাকার কয়েকজন ভূক্তভোগী বলেন, মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের থাকলেও তা আমাদের নিজ খরচে পরিবহন করতে হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারগণ ইট, সিমেন্ট,খোয়া, বালু, কাঠ ইত্যাদি বরাদ্দের চেয়েও কম সরবরাহ করছে বলে জানান। ঘরের কাজ নিয়েও আছে নানান দ্বিমত এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ঘরের কাজ ৯৮% কমপ্লিটের কথা বললেও বাস্তবে সরেজমিনে ৪০% কাজও শেষ হয়নি।
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর নিয়ে উপজেলা জুড়ে এক প্রকার হরিলুট চলছে। যাচাই বছাই ছাড়াই ঢালাও ভাবে ঘর বরাদ্দের তালিকা করায় প্রকৃত দরিদ্ররা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাদ পড়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর মুল উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা ঘর প্রতি সর্ব সাকুল্যে ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ করে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ঘর তৈরী করে যাচ্ছে।
ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মইনুল হোসেন টিপু বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘর বরাদ্দের খবর আমার জানা নাই। যে নিয়মে ঘর নির্মাণ করার কথা তা না করে নিম্নমানের ঘর তৈরী করায় উন্নয়নমুখী সরকারের বদনাম হচ্ছে।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগে আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর উপহার দেয়ার বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি মহোতি উদ্যোগ। যারা দরিদ্রদের এ ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ৪ আসনের এমপি আলহাজ¦ ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর নিয়ে উপজেলা জুড়ে এক প্রকার হরিলুট চলছে। এই হরিলুটের সাথে উপজেলার সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি জড়িত। আমি দ্রুত ঘটনার সুষ্টু তদন্ত দাবি করি এবং অবিলম্বে সকল অভিযুক্ত কারিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি লিংকন বিশ্বাস জানান,অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নাই, ঘরের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে।