ইতিহাস থেকে জানা যায় ,ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। লিখিতভাবে ১২৪০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাণিজ্য মেলা বসে। এর ৯০ বছর পর ১৩৩০ সালে সম্রাট চতুর্থ লুয়ের সমায় প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এই বাণিজ্য মেলার রূপ পায়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে এই মেলা সমৃদ্ধ হতে থাকে। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রাঙ্কফুর্ট বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করলেও ১৯৯০ সালের পর থেকে তাদের ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
প্রতিবারের মত এবারও ফ্রাঙ্কফুর্ট বানিজ্যিক শহরে অনুষ্ঠিত হয় হাইমটেক্সটিল মেলা। ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ইং পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী ছিলো মেলার আয়োজন। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ইন্টারন্যাশনাল হাইমটেক্সটিল মেলায় বিভিন্ন ধরনের পন্য সাজিয়ে স্টল দিয়েছেন কিন্তু গতবারের তুলনায় স্টলের সংখ্যা ছিল খুবই কম। প্রতিবার এই মেলাকে কেন্দ্র করে ফ্রাঙ্কফুর্টে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক হোটেলগুলোর সরব উপস্থিতি থাকে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পদচারনায় মুখরিত থাকতো।

বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বায়নের এই যুগে জলবায়ুর পরিবর্তনের পাশাপাশি ইউক্রেন-রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তাঁর একটি প্রভাব ফ্রাঙ্কফুর্ট হাইমটেক্সটিল মেলায় পড়েছে।
অন্যদিকে ফ্রাঙ্কফুর্টে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গতবারের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে টেক্সটাইল ব্যবসায়ীরা কম এসেছে। যার তুলনায় ভারতীয় ও পাকিস্তানীদের সংখ্যা অনেক বেশি।
প্রতিবছর ফ্রাঙ্কফুর্ট হাইমটেক্সটিল মেলাকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল ব্যবসা বৃদ্ধি পায় এবং প্রবাসীদের বিরাট একটা অংশের আনাগোনা থাকতো, সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি রপ্তানিকারকেরা বাণিজ্যিকভাবে তাঁদের পণ্য ক্রয়ের জন্য আলোচনা করতে আসতেন। কিন্তু এবারের মেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গতবারের মতো এবারে মেলা জমে ওঠেনি।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর পরই আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে। প্রতিবছর এই মেলায় বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু এবার মাত্র ১৫ টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রবাসীরা বলছেন এটি অপ্রত্যাশিত। ফ্রাঙ্কফুর্টের চাকরিজীবি এবং ব্যবসায়ীরা মনে করেন আন্তজাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ থাকলে মেলা কে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা এই ব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত তারা ক্ষতি গ্রস্থ হবে এমনটাই প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান ।স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মতামত ব্যাক্ত করেন ।