‘ফিরে যেতে চাই’
জাহান সৈয়দ (মিনা)
এ কোন মোড়ে এনে দাঁড় করালো নিয়তি আমায়,
ফিরে যেতে অপারগ, গৃহ বন্দী আমি অসহায়।
ভাবিনি কখনো কোন দিন এমনটি হবে,
ক্ষুদ্র একটি জীবাণু পৃথিবী তোলপাড় করে দেবে।
নাগিনীর মতো বিরাজিছে সে, আচমকা ছোবল দিতে,
সারা বিশ্ব আজ রণক্ষেত্র তারই মোকাবেলাতে।
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, সকলের উপর নজর আছে তার,
সাদা কালো, গরীব ধনী ভেদাভেদ নেই কোন আর,
শত্রু শুধু একটাই, এই পৃথিবীর মানুষ নামের প্রাণী,
হোকনা কেন সে গরীব কাংগাল, নয় বিলেতের রানী।
করোনার ঝড়ে বিদ্ধস্ত পৃথিবী, নিস্তব্ধ চারিপাশ,
এ কেমন ঝড় এলো কেড়ে নিতে হাজারো প্রাণের নিঃশ্বাস।
জানি সংকটের এই মুহূর্তে চলবেনা হওয়া ম্রিয়মাণ,
যেমন করে হোক রুখতে হবে এই অসংখ্য বলিদান।
ক্লান্ত আমি পরিশ্রান্ত আমি, সামাজিক দূরত্বের ভার
বয়ে বয়ে,
তাই আজ ফিরে যেতে চাই, আমার একাকিত্বের বেদনাকে সাথে নিয়ে।
ফিরে যেতে চাই আমি সেইখানে, সেই সুদূর দেশে,
যেখানে একদিন বেঁধেছিলাম নীড় দুজনে ভালোবেসে।
আমার ঘরকন্যা, আমার ফেলে আসা সংসার,
আপনজনের নৈকট্য আর সৃজনশীল বন্ধুদের ভালোবাসার সম্ভার।
হাত ছানি দিয়ে ডাকে আমায়, ডাকে সেই পরিচিত জনপদ সেই চারিপাশ,
কত যুগ ধরে যেন দেখিনি আমি আমার প্রিয় আবাস।
রান্না ঘরের কোনেতে রাখা রাতের রানী, বেলী আর হাস্নাহেনার গাছ,
হয়তবা কলির ভারে নুয়ে পড়েছে ওরা আজ।
সুগন্ধ ছড়িয়ে ফুটবে যখন, খুঁজবে কি ওরা আমায়?
আমার হাতের পরশ পেতে আকুল হবে যে সবাই।
শুভ্র তুষার গলে গিয়ে সেথায় উঁকি দেয় বুঝি বসন্ত,
নিঃশ্বাসে যেন পাই আমি সেই বরফ গলা ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ।
সামনের বাগানে টিউলিপ গুলো মনে হয় মাথাচাড়া দিয়ে চায়,
বসন্ত বাতাসে হেলেদুলে ওরাও কি খুঁজে আমায়?
কত হাসি আনন্দ, গল্প সেই খাবার টেবিলে আর শোবার ঘরের বিছানায়,
এমনি আরো কত শত মধুর স্মৃতি আজ মনে পড়ে যায়।
তাই আজ আমি ফিরে যেতে চাই, ফিরে যেতে চাই,
আমার পরিচিত সেই জগতে,
বুকের গহীনে একান্তে লালিত,
সেই ভালোবাসার
অলিতে গলিতে।