জার্মানবাংলা বিশেষ রিপোর্ট: চলমান সংলাপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই লাভবান হয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ অনেক জোট বা দলের পক্ষে সংলাপে অংশ নেয়া নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা দেখে তারা এই মন্তব্য করেছেন।
চলমান নির্বাচনী সংলাপে সর্বশেষ অংশ নেন ৯টি রাজনৈতিক দল ও ১৪টি জোটের নেতারা। ন্যাপ ভাসানী ও বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য ছাড়া বাকিরা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। তাই নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন উত্তম।’ অন্যদিকে বাম গণতান্ত্রিক ঐক্যের সমন্বয়ক ডা. এমএ সামাদ নির্বাচনকালী সরকার, ইভিএম বাতিল ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি তাদের হাতে আংশিক ক্ষমতা দেওয়াসহ সাত দাবি জানান।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এ সংলাপ হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সংলাপ ইতিহাসে মাইলফলক স্থাপন করেছে। রাষ্ট্রের প্রধান এমন সংলাপ করেছেন, এমন নজির বাংলাদেশে নেই।’
তিনি বলেন, ‘দলের অনেকেই সংলাপের বিরুদ্ধে ছিলাম। ১৫ ও ২১ আগস্টের কুশিলবদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইনি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) চেয়েছেন বলেই আমরা সার্বিক সহযোগিতা করেছি।’ এই সংলাপে ৭০টিরও বেশি জোট ও দল এসেছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সংলাপে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আলাপ আলোচনার জন্য দরজা খোলা। কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক সংলাপ এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। ব্যক্তিগত বা অন্যান্য বিষয়ে কথা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ দলই স্থিতাবস্থা চেয়েছে। সংসদকে বহাল রেখে নির্বাচন করার পক্ষে তারা। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ব্যবস্থার পক্ষে সবাই। নির্বাচন কমিশনকে সরকার সাপোর্ট করবে।’ নির্বাচন ঘিরে যত উত্তাপ, তাতে পানি ঢেলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।”এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে না, এটা আমরা বিশ্বাস করি না।’
সর্বশেষ সংলাপে অংশ নেওয়া ৯টি দলের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়ন পার্টি (বিএসডিপি), ন্যাপ ভাসানী, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ সত্যব্রত আন্দোলন, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি (জেএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে ১৪টি জোটের মধ্যে ছিল জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), বাংলাদেশ জাতীয় জোট-বিএনএ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ), যুক্তফ্রন্ট, গণফ্রন্ট ও প্রগতিশীল জোট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ), জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য জোট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজাট।