শিরোনাম :
ফ্রাঙ্কফুর্টে গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী হরিপুর সীমান্তে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা ব্যর্থ ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ,  চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন হাম টিকা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগে ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, জারি সুনামি সতর্কতা গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ পেয়েছে ১৬০ দেশের সমর্থন: হান চেং রুশ নিয়ন্ত্রিত বন্দরে ড্রোন হামলা, পাঁচ জাহাজ লক্ষ্যবস্তু সমাজতান্ত্রিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে চীন-লাওস কিউবা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াল বেইজিং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাইরেন জুড়ে দেশ

প্রকাশিত হলো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সফলতার রহস্য

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২০

জার্মানবাংলা অনলাইন: ধ্রুবতারা প্রকাশনী থেকে ডক্টর এম এ আজীজের গ্রন্থনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সফলতার রহস্য প্রকাশিত বইটি এখন বাজারে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে East London Book Shop, 117 Whitechapel Road, London E1 1DT (Tel: 020 7422 005), দেশ পাবলিকেশন ২২, সেগুনবাগিচা (৫ম তলা), ঢাকা-১০০০, (01721 565218, 01739 460994), জামিল বইঘর- ৩৭/১ খান প্লাজা, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ এবং পাঠশালা- ২২ আজিজ সুপার মার্কেট (নিচতলা) ঢাকা-১০০০। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে বাংলাদেশী টাকায় তিনশত টাকা।

বইটি সম্পর্কে লেখক প্রকাশের মন্তব্য
তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ান বর্তমান বিশ্বে বিস্ময়কর প্রতিভাবান রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বর্তমান জামানায় তুরস্ক তথা বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতা। বিশ্বের মজলুম মুসলিমদের একমাত্র নেতা। শাসক হিসাবে বিশ্বের মজলুম জনগণের একমাত্র কণ্ঠস্বর, বিশ্বের জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব অসহায় বনি আদমের অন্যতম সহায়ক। মাত্র ১০০ বছর আগে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি তথা সুপার পাওয়ার, বর্তমান তুরস্কের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার হলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
এরদোয়ানকে নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। তিনি এখনও জীবিত। সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়ে একাধারে ১৬/১৭ বছর দেশ পরিচালনা করছেন।
যে ব্যক্তি ছেলেবেলায় নিজের লেখাপড়ার খরচ ও পরিবারের খরচ মেটানোর জন্যে ইস্তান্বুুলের অলিগলিতে লেবু, তরমুজ আর সিমিট রুটি ফেরি করে বেড়াতেন এবং যার আয় হতে নিজের ও পরিবারের খরচ মেটাতেন, সেই এরদোয়ান ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তুরস্কের সবচেয়ে জনবহুল শহর, যেখানে তুরস্কের প্রায় এক-চতুর্থাংশ লোকের বসবাস, ব্যবসা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বহু ভোটে এ নগরের মেয়র নির্বাচিত হন। মহানগরীর বহু দিনের সমস্যা সমাধান করে সারা দেশে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তারই বদৌলতে এ কে পার্টি গঠন করে ২০০২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ১৬/১৭ বছর তুরস্কের অত্যন্ত জনপ্রিয় সফল প্রতাপশালী শাসক। আধুনিক তুরস্কের উন্নয়নের রূপকার এবং একটি পরাশক্তি (সুপার পাওয়ার) থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অধঃপতিত তুর্কি জাতিকে আবার বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার নেতা।
এরদোয়ান সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষায় বই লেখা শুরু হয়েছে। বাংলা ভাষায়ও একাধিক বই বেরিয়েছে। এসব বইয়ে তুরস্কের ইতিহাস, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে দেশটির অতীত ও বর্তমান ইতিহাস, সামাজিক অবস্থা।
আমি দীর্ঘদিন থেকে বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত শহর লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খবরাখবর বিশেষ করে তুরস্ক, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও এ কে পার্টির উত্থানের খবরাখবর পাচ্ছিলাম। প্রায় ৩৫ বছর আগে স্বল্প সময়ের জন্য তুরস্কের ইস্তান্বুল শহর দেখার সুযোগ হয়েছিল। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন লন্ডন সফর করেন। মরহুম ব্যারিস্টার আজহার আলী সাহেবের বদৌলতে তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তাঁর এ কে পার্টির মাধ্যমে তুরস্কের অর্থনৈতিক-সামাজিক অনেক পরিবর্তন এসেছে শুনছি ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানছি।
আমার মনে হলো এরদোয়ান ও এ কে পার্টির সফলতার প্রেক্ষাপটে আমাদের শিক্ষণীয় কী, এ বিষয়ের ওপর সংক্ষেপে কিছু লেখা প্রয়োজন, যাতে অন্য মুসলিম দেশ ও ইসলামি দলগুলো শিক্ষা নিয়ে উপকৃত হতে পারে।
বর্তমান তুরস্কের সফলতা থেকে শিক্ষণীয় কী, তা বুঝতে হলে দেশটির ইতিহাস, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও এ কে পার্টির সংক্ষিপ্ত ইশতিহার, তাদের কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে।
সিদ্ধান্ত নিলাম, এ নিয়ে বই লিখব। তাই যতটুক সম্ভব সংক্ষেপে কিছুটা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। এরদোয়ান, এ কে পার্টির সাফল্য নিয়ে তুর্কি, ইংরেজি, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা ওই সব বইগুলো পড়তে পারেন।
আমার বইয়ে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। তুরস্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে লেখার জন্য প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই আবার লন্ডন থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কে দ্বিতীয় বার গেলাম। রওয়ানা হওয়ার আগেই লন্ডনে যোগাযোগ করি তুর্কি বন্ধু হাকান ইরদেম ও হাসান বাসরীর সঙ্গে। তাদেরই রেফারেন্সে ইস্তান্বুলের এ কে পার্টির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং লেখার জন্য কিছু তথ্য লিখিতভাবে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলাম এবং সময়মতো পাঠিয়েও দিলেন তারা। তারা হলেন মি. সামেদ আজিরবাস, মিস ইসরা ওজে, মি. মোস্তাফা পারলাক ও বোরাক। সুযোগ পাওয়ার পরও সময়স্বল্পতায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। ইনশাআল্লাহ পরবর্তী সফরে সবার সঙ্গে দেখা করে আরও অনেক তথ্য জানতে পারব, যা হয়তো পরবর্তী পর্যায়ে লেখার চেষ্টা করব।
সত্যিই তুরস্কে এসেছে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন। চাই অর্থনৈতিক হোক আর সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে হোক। একমাত্র যারা এরদোয়ানের আগে এবং পরের তুরস্ক সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন, তারাই সেই পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারবেন।
নেতাদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার কারণেই একটি জাতি ও দলের উত্থান-পতন হয়। যেসব নেতা পূর্বসুরীদের শৌর্যবীর্য, সততা-নিষ্ঠা, ন্যায়নীতি ভুলে যান, তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা উপেক্ষা করে আরাম-আয়েশ, ভোগবিলাস আর অলস জীবন যাপনে লিপ্ত হন, এমন নেতাদের শাসনামল কোনো জাতির পতন ত্বরান্বিত করে। তুর্কি জাতিও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সৌভাগ্যের বিষয়, ১০০ বছরের মাথায় এসে দেশটি ঘুরে দাঁড়াল সেই এক মহান নেতার উত্থানেই। সেই নেতা হলেন রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ান, যিনি শুধু তুর্কি জাতির জন্যে নয় বরং অধঃপতিত সমগ্র মুসলিম জাতির জন্যও আশীর্বাদস্বরূপ। সমগ্র মজলুম মানবজাতির দিশারীও বটে।
জাতির ক্রান্তিকালে যিনি দেশমাতৃকার জন্য জীবনবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন, দেশকে উন্নতির শিখরে নিতে তার ওপরই ভরসা করে সাধারণ মানুষ। এমন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র শুরু করে নিজ দেশের ব্যর্থ নেতারা এবং বাইরের কায়েমী স্বার্থবাদীরা। এ ব্যাপারে এরদোয়ান ও তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবশ্যই সদা সতর্ক থাকতে হবে। এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানের পৃথিবীর অবস্থা ও ১০০ বছরের আগের পৃথিবী এক নয়।
আমরা চাই এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শতাধিক বছর বেঁচে থাকুন, তুরস্ক এবং সমগ্র মুসলিম ও মজলুম জাতির নেতৃত্ব দিয়ে যান। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না। প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম সবাইকে মানতে হবে। বর্তমানে কোনো দেশেই কোনো নেতা ভালো হোন আর খারাপ হোন, যত উন্নতি আর জনকল্যাণ কাজ করুন; তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এর পরিণতি খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই না প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বেলায় তা হোক। কিন্তু অতি সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে বড় শহরগুলোর ফল ঝড়ের পূর্বাভাসই মনে হচ্ছে। ঘরে-বাইরের শক্তিশালী শত্রুর অর্থনৈতিক আক্রমণে দেশটির মুদ্রা লিরার অবস্থা কোনোভাবেই ভালো যাচ্ছে না। আশা করি, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তাঁর সাথীরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবেন।
এ বই লিখতে আমি বিভিন্ন বই ও পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে তথ্য নিতে চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে জনাব হাফিজুর রহমানের বই এরদোয়ান : দ্যা চেঞ্জমেকার থেকে। আমার এই বই লিখতে অনেক বন্ধু উৎসাহ দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যারা বিভিন্ন সময়ে বই-পুস্তক পাঠিয়ে ও উৎসাহ দিয়ে সমর্থন দিয়েছেন জনাব আলহাজ আবদুর রহীম অন্যতম। লন্ডনের প্রিয় বন্ধু মোহাম্মদ রহমান জিলানী যে কোনো আর্টিকেল ও বই লিখতে অনেক পরামর্শ ও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস হেলেন রহমান জিলানীও সাহায্য করেছেন। জনাব আলহাজ আবদুর রাজ্জাক, আলহাজ মো: আবুল কালাম, আবদুর রবও বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছেন। আমার কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ইনস্টল করতে লন্ডনের ডট প্রিন্টের স্বত্বাধিকারী জনাব রফিকুল ইসলাম (ইমদাদ) ও তাঁর সুযোগ্য ভাগনে মুনির আহমদের অবদান কখনও ভোলার মতো নয়। বইটি সম্পাদনা করতে ঢাকার সাংবাদিক জনাব আবদুল মকিম চৌধুরী যথাসাধ্য পরিশ্রম করেছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
আমার এই লেখা লিখতে গিয়ে আমার স্নেহের পুত্র লন্ডনের প্রখ্যাত কিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কয়েকটি বইয়ের (ইংরেজীতে) লেখক এম এ আহাদ আজীজ, বইয়ের টাইপ/কম্পোজ করতে কম্পিউটারের বহু সমস্যা বিনা সংকোচে, বলার সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে কর্মজীবনে সাফল্য দিন, সুস্বাস্থ্য রাখুন ও দীর্ঘায়ু দিন এই দোয়া করি। প্রিয়তমা সহধর্মিণী হাসিনা আকতার আজীজ এবং স্নেহের ছোট মেয়ে জাহরা আক্তার আজীজের প্রতিদিনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করতেই হয়।
ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার ওপর ‘আমার দেখা আধুনিক তুরস্ক’ শিরোনামের একটি লেখা লন্ডনের বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের প্রথিতযশা লেখক ও সাংবাদিক জনাব মাসুদ মজুমদার মেহেরবানি করে নিজে সম্পাদনা করে নয়া দিগন্তে ছাপিয়েছেন, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। আমি লেখাটি পাঠকদের জন্যে এই বইয়ের শেষ দিকে সন্নিবেশিত করেছি। আমার ২২ অক্টোবর ২০১৯ সালে তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা পরবর্তী পর্যায়ে সংযোজন করার ইচ্ছা রইলো।
নানা কারণে বইটিতে বিভিন্ন ভুলত্রুটি থাকতে পারে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে গঠনমূলক পরামর্শ দানে বাধিত করবেন। পরবর্তী সংস্করণে তা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করার চেষ্টা করবো।
বইটি প্রকাশের জন্য ধ্রুবতারা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুজ্জামান সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লেখক ডক্টর এম এ আজীজ।

প্রকাশকের কথা
বর্তমান বিশ্বে আজ সবচেয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত জাতি মুসলিম সম্প্রদায়। এককালের শৌর্য-বীর্যে মহাপরাক্রমশালী জাতির আজ কত-না দুর্দশা! অতীতের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তিগাথা রোমন্থন আজ তাদের সান্ত্বনা মাত্র। এ দুর্দশা থেকে উদ্ধার পেতে মুসলিম বিশ্বে দরকার সুযোগ্য নেতৃত্ব। তাই দেশে দেশে অসহায় মুসলিম জনগণ অধীর আগ্রহে কালাতিপাত করে আসছে এমন একজন শক্তিমান সুশাসকের, যিনি আশার আলো দেখাবেন দেশের মানুষকে। পথ দেখাবেন ইসলামের আলোকিত ন্যায়-নীতি আর সুশাসনের।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ান-এর নামটি তখনই স্মরণ করতে হয়। তিনি একজন দৃঢ়চেতা ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসক। ইতিমধ্যে বিশ্ব দরবারে নিজের আসন করে নিয়েছেন বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার জন্য। নজর কেড়েছেন মুসলিম বিশ্বের, হয়েছেন প্রশংসিত। প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে আজ এরদোয়ান এক আলোকবর্তিকা আর সে আলোয় আলোকিত তুরস্ক।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সফলতার সঙ্গে নিজ দেশ তুরস্ক শাসন করছেন ১৭ বছর যাবৎ। তিনি প্রমাণ করেছেন শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব। কোন জাদুমন্ত্রবলে তিনি ইউরোপের রুগ্ণ রাষ্ট্রটিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক আধুনিক শক্তিধর রাষ্ট্র রূপে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন, তা কৌতূহলের বিষয় বৈকি।
সেই কৌতূহল মেটাতে এবং এরদোয়ান-এর সাফল্যের রহস্য জানার চেষ্টা করেছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ডক্টর এম এ আজীজ। এজন্য তাঁকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি বার বার সফর করেছেন তুরস্ক। সেখানে গিয়ে স্বচক্ষে দেখেছেন তুরস্কের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি। আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্টের দেশগঠনমূলক কাজে মুগ্ধ লেখক ড. আজীজ তাঁর বইটিতে দেখাতে চেষ্টা করেছেন, দেশপ্রেমের সঙ্গে দৃঢ় মনোবল থাকলে আর নীতি কর্মসূচিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনলে সফল হতে পারেন আঞ্চলিক নেতারা, যেমন হয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ওপর এই বইটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা বলে বিবেচিত হবে। বইটি প্রকাশের দায়িত্ব পেয়ে ধ্রুবতারা প্রকাশনী তাই গর্বিত ও আনন্দিত।
বইটির সম্পাদনার কাজে যিনি আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন তিনি সাংবাদিক আবদুল মকিম চৌধুরী।
অবশেষে লেখককে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি সুলিখিত বই পাঠকের হাতে তুলে দেবার জন্য। বইটি পড়ে পাঠক-পাঠিকা বর্তমান তুরস্ক এবং এর সুযোগ্য প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়্যিপ এরদোয়ান সম্পর্কে অনেক দরকারি তথ্য জানতে পেরে উপকৃত হবেন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD