শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

পর্তুগালে বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে

রাসেল আহম্মেদ, পর্তুগাল
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

বিগত দুই দশকের বেশী সময় ধরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করে এবং ইউরোপ ও তার ব্যতিক্রম নয়। এসকল উদ্যোগের বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সফলতার মুখ দেখেছে। এই উদ্যোগ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো ছিল পর্যটক নির্ভর এবং বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন হাজার হাজার বাংলাদেশী অভিবাসী সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ।

পর্তুগালের রাজধানী শহর লিসবন সহ বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে হাজারো ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যার বেশীরভাগ পর্যটন নির্ভর। শুধুমাত্র লিসবনের ডাউনটাউন এলাকায় গড়ে উঠেছে ২ হাজারের বেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মরত ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় এবং পরবর্তীকালে এসব ব্যবসা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

দুইমাস পুরোপুরি বন্ধ থাকার পরে যদিও গত মে মাসের ১৮ তারিখ থেকে সীমিত আকারে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পূনরায় খুলে দিয়েছে কিন্তু বর্তমানে একেবারে ক্রেতাশূন্য! বিশেষ করে সুবিনিয়র এবং পর্যটন এলাকায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা বেশী বিপাকে পড়েছেন। দিন শেষে খালি হাতে ঘরে ফিরছেন সবাই এবং অনেকে এরকম পরিস্থিতি দেখে প্রতিষ্ঠান খোলা থেকে বিরত থাকছেন।

ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী সহ সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো প্রবাসী। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত লে-অপে আছেন কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। সরকার কতৃক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় প্রায় ৪০% লে-অপ আবেদন খারিজ করা হয়েছে অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ বিবেচনায়।

যেসব প্রতিষ্ঠান এই সুযোগের আওতায় পড়েছেন তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন পর্তুগালের সর্বনিম্ন বেতন পাচ্ছেন সরকার থেকে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগন তাদের ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং অনন্য ব্যায় নিয়ে দু-চিন্তায় রয়েছেন। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কেই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেকেই ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হবে।

এপ্রসঙ্গে কথা হলে লিসবনের সুবিনিয়র পন্যের পাইকারি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পূনরায় চালু করলেও একেবারে বিক্রয় নেই বল্লেই চলে। তাই প্রতিষ্ঠান গুলোর স্বাভাবিক ব্যায় মেটানো নিয়ে চরম দু-চিন্তায় রয়েছি। তাছাড়া সরকার ঘোষিত প্রনোদনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি এখনো। ব্যাংক থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এখনো কোন নিদের্শনা পাওয়া যায়নি।

লিসবনের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান বেলেম এর সুবিনিয়র ব্যবসায়ী এ কে রাকিব জানান, জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরে দোকান পূনরায় চালু করি কিন্তু বেচা বিক্রি একেবারে নেই বল্লেই চলে তাই কিছুদিনের মধ্যে আবার বন্ধ করে দিই। এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ হারাবে। আমরা আশাবাদী আগামী মাস থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করবে।

আরেক তরুণ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সাত্তার বলেন, এখনো পর্যটকের সমাগম না হওয়ার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সরকার ঘোষিত লে-অপে রয়েছি। আগামী ১লা জুলাই থেকে আবার রেস্টুরেন্ট পূনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ব্যবসা আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নিয়ে সন্দিহান রয়েছি। তাই অনিশ্চয়তা দিনাতি পাড় করছি।

পর্তুগালে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মার্চ মাসের ১৮ তারিখে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে যা ২রা মে পর্যন্ত চলমান থাকে। জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুর্যোগপূর্ণ রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। ইতিমধ্যে ২রা মে থেকে শর্ত সাপেক্ষে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এবং ১৮ মে থেকে রেস্টুরেন্ট সহ অনন্য প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করার অনুমতি প্রদান করে।

করোনা ভাইরাসে গতকাল পর্যন্ত ৩৮০৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৪০১০ জন এবং মৃত্যু বরন করেছে ১৫২৪। জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরে রাজধানী শহর লিসবনে সংক্রমণের হার কিছু ঊর্ধ্বগতি তবে সরকারের পক্ষ থেকে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD