নেত্রকোনা প্রতিনিধি: খনিজ সম্পদে ভরপুর পর্যটন সম্ভাবনাময় সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দূর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সেইসাথে ধীর গতিতে কাজ চলায় নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়রা। এতে দীর্ঘদিন ধরেই চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় কয়েক লাখ মানুষ।
নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘ সূত্রীতার কারণ হিসেবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উধাসীনতাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলার নৈর্সগিক সৌন্দর্যে ঘেরা সীমান্তবর্তী উপজেলা দূর্গাপুর। বালু কয়লা পাথর, সাদা মাটিসহ নানা খনিজ সম্পদে ভরপুর এ উপজেলা। এ সকল গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় দূর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়টিকে জাতীয় মহা সড়কে উন্নিত করার কর্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০১৭ সালে ৩৬ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৩ শ ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সূত্রিতার পর ৫ টি গ্রুপে নির্মাণ কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারা। গত কিছুদিন ধরেই অতিবৃষ্টি হওয়ায় সড়কে কাজ অনেকটাই বন্ধ রেখেছেন। তবে গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জারিয়া থেকে লক্ষীপুর বাজার পর্যন্ত ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের সাইট বøক বানানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সওজের কতৃপক্ষের করো উপস্থিতি না থাকলেও দিনেরাতে ব্লক বানাচ্ছেন তারা। এতে ব্যবহার করছেন অত্যন্ত নিন্ম মানের কাঁদা মাখা বালু, পাথর সিমেন্টও পরিমানের তুলনায় কম।
তবে পরীক্ষা করেই এমন বালু পাথর ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান, ঠিাকাদার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ইমরান হোসেন। ব্লকগুলোর গুনগত মান পরিক্ষা করেই এগুলো ব্যবহার করা হবে। গত ১ বছরে সড়করে বিভিন্ন অংশের ৪০/৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্মাণ কাজে অতিনিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, কাকৈরগড়া ইউনয়ন আওমীলীগ নেতা আব্দুস শহীদ, দূর্গাপুর নাগরিক কমিটির নেতা আমিনুল হকসহ স্থানীয় আরো অনেকে। কাজের মান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করলেও তা আমলে নেয়নি কতৃপক্ষ। উল্টো বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ সওজ কতৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এমন দায়সারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদাররা। ধীরগতিতে কাজ চলায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার পাশাপাশি দীর্ঘদিরেন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। সড়কে সংস্কার কাজ চলায় দূর্গাপুরের বালুবাহি কয়েক হাজার ট্রাক চলচল করে প্রতিদিন। এতে করে প্রতিনিয়তই কোন না কোন জায়গায় অতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাকের চাকা ফেসে যায়। কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় জরুরী কোন রোগী নিয়ে যেতে চাইলেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনা ঘটছে অনেক।
এদিকে নিন্মমানের কাজ হচ্ছে না বলে সকল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নেত্রকোনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম । তিনি জানান, ইতোমধ্যে সড়কের প্রায় ৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখনো তেমন দৃশ্যমান হয়নি। বৃষ্টি জনিত করণে কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদাররা। তবে ব্লক তৈরীতে নিম্নমানের বালুর অভিযোগের কিছুটা সত্যতা মিলেছে তাই অটিবিএল নামে একটি ঠিকাদার কোম্পানিকে কাজ সাময়ীক বন্ধ করে ভাল বালু দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর ইট, পাথরসহ সকল সামগ্রী পরিক্ষা করেই কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সার্বক্ষনিক তদারকি করা হচ্ছে তবে জনবল সংঙ্কটে ৩৬ কিলোমিটার অংশে দিনরাত থাকাটা কিছুটা সমস্যায় পরতে হচ্ছে। ভালো সামগ্রী ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ে নির্মান কাজ শেষ করার চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছেন সওজ কতৃপক্ষ। তদারকির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিগুত্বপূর্ণ এই সড়টির নির্মান কাজ শেষ করে লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ লাগবে উদ্যোগী হবে কতৃপক্ষ এমন প্রত্যাশাই করছেন পাহাড়ি জনপদের মানুষেরা।