বহু দিন ধরে হারিয়ে যাওয়া দুঃখগুলো খুঁজি
আমার এই সুখভরা জীবনে একটি দুঃখও অবশিষ্ট নেই
দুঃখরা আমাকে ছেড়ে যেতে যেতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে
দুঃখবিহীন এই কী দুঃসহ মানব জীবন !
দুঃখ নেই বলে আজ আমার কোন সমব্যথী নেই
শান্তনা নেবার কিম্বা দেবার মত একটা বন্ধুও নেই
ভালবাসবার মত জুলেখা শ্রীলেখা তনু কবিতারা নেই
দুঃখ খুঁজতে খুঁজতে আমি অমলকান্তির জানালায় উঁকি দিয়েছি । গোপনে,
লাশ কাটা ঘরে শুয়ে গোটা একটা জীবনানন্দ দাশ খুলে খুলে জড়িয়ে থেকেছি
কীর্তিনাশার তীর ধরে কপোতাক্ষ হয়ে হেঁটে নেমে গেছি তিস্তার খরাভরা বুকে
দুঃখ খুঁজতে খুঁজতে একদিন আমি কবি শামসুর রাহমানের বাড়ি পর্যন্ত চলে গেছি
তাঁর বারান্দায়, চেয়ারে, টেবিলে, খাটের তলায়, ফ্রেমের বার্নিশ, দেয়াল, ছাদের কার্নিশ,
মেঝের ধূলো্তে বালিতে, কোথায় খুঁজিনি আমি তাঁর নাম লিখে যাওয়া বিখ্যাত দুঃখগুলো!
দুঃখ নেবে দুঃখ? বলে রোজ হাঁক দিত আমাদের পাড়ার যে ফেরিওয়ালাটা
তাঁকেও আর খুঁজে পাওয়া গেল না কোথাও ।
সুখের সর্বোচ্চ চূড়ার একেবারে শীর্ষ বিন্দুটি ছুঁয়েই জেনেছি একদিন
দূঃখের উঠানেই ভালবাসার ঘর। দুঃখই মানুষে মানুষে সেতু পরম্পর
দুঃখের দীঘিজলে স্নান সেরেই মানুষের সুখী হয়ে ওঠা। অথচ আমিই কিনা
মূর্খের মত দোআঁশ এক মানব জমিনে কেবলই সুখের চাষাবাদ করে গেছি
আজ আমার মাচা ভর্তি সুখ লাউ কুমড়ার মত দুলছে, ঘর বোঝাই সুখ নিয়ে
আমিই রয়ে গেছি আপাদমস্তক এক দুঃখের কাঙ্গাল।
মনে পড়ে সেই কবে একদিন খেলার ছলে ঘাসে ঘাসে হৃদয় মুড়ে নিয়েছিলাম
ঘাসের গালিচার উপর দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তার মত বিছিয়ে দিয়েছিলাম হাঁসের পালক
সেই থেকে যত গভীর দুঃখের নদীতেই নেমেছি, দুঃখ আর আমাকে ছুঁতে পারেনা
গা ঝারা দিলেই আমি এক অভিজাত রাজহাঁস
আচ্ছা! এমন তো নয় যে এই বেলা দুঃখ নেই বলে আমিও খানিকটা দুঃখিত রয়েছি!
আয় দুঃখ ঝেঁপে, প্রাণ দেব মেপে–