তোমাকে দেখবার সাধ আমার না মিটতে,
অগ্নি দগ্ধ নিপীড়িত নয়ন ভরে অশ্রুতে।
মনে পড়ে সেদিন চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢালে,
বাতাসে উড়ন্ত গোলাপি শাড়ির আঁচলে-
রোদ ঝিকিমিকি হেসেছিল তোমার সান্নিধ্যে।
আমি হতবাক! চোখ ফেরান ছিলনা সাধ্যে-
সবুজের মায়া-কোলে তোমার চিবুকে যখন,
আংশুমালী লালিমায় ভরে দিয়েছিল তখন।
আমার মুগ্ধ নয়নে সে সময়কে ধরেছি বুকে,
সে মুহূর্তের ভাল লাগার পরশ এখনো সুখে-
বাস করে আমার অন্তরে – রইবে চিরকাল,
হৃদয়ের স্পন্দনে মিলে আছে সেই ছন্দ তাল।
তোমার বাস সেদিন থেকে অস্তিত্ব জুড়ে,
আজান্তে ফটক খুলে পশলে গোপন ঘরে।
তোমাকে দেখতে পাবেনা আর এ দগ্ধ নয়ন,
এভাবে জীবন যাপন, আমার জীবন্ত মরণ।
আগুন! আগুন! সব পুড়ে ছারখার সেদিন-
পুড়েছে মানুষ, জীবনের সর্বস্ব হয়েছে মলিন।
ধ্বসে অট্টালিকা আর রসায়নের বিষাক্ত ধূম্র-
আচ্ছান্ন চারিদিক, জ্বলছে বস্ত্র ও গাত্রের চর্ম।
ছেড়ে যেতে চাইনি ধরা ও গোলাপি কন্যা!
তুমি বুঝবে কি আমার অগ্নিতে জ্বলা যন্ত্রণা?
শ্বাস রুদ্ধ প্রায় ছিলাম দগ্ধ নয়নে ধরাশায়ী,
আর্ত চিৎকার শুনেও আসেনি কোন করুণাদায়ী।
ছিল উত্তপ্ত রাক্ষস আলিঙ্গন- নিদারুণ অগ্নি দাহন।
তোমাকে দেখা হবেনা কোনদিন- আমার দগ্ধ নয়ন।
আমার বেঁচে থাকার কষ্টও জানবে না কোনদিন-
শোননিতো কখনো কি বাজায় আমার মনের বীন।