ফারুক আস্তানা,দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা থাকলেও বা বসবাস করে আসলেও।শুধু বাংলাদেশিরাই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতের কবলে পড়ছেন এবং টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।যান- মালের ক্ষতির পরিমাণ অন্য যেকোনো দেশের অভিবাসীদের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তূলনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভবনাও বেশি।
বর্তমানে দেশটিতে যেকোনো সময়ে যেকোনো বয়সী মানুষের সাথে যা-তা ঘটে যেতে পারে।এশীয় হলেতো কোন কথায় নেই।এশিয়ানরা এদেশের অপরাধীদের কাছে সহজ টার্গেট, বেশি লাভ! কারণ হিসেবে ধরা হয় তাদের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ে রাখার মতো কোন সুযোগই থাকে না।
এশিয়ানদের মধ্যে বাংলাদেশিরা বেশি অনিরাপদ দেশটিতে এর কারণ বেশির ভাগ বাঙালি ব্যবসা করেন তাদের কাছে নগদ অর্থ কেরি করতে হয়। আবার বাসায়ও টাকা পয়সা থাকে অন্যদিকে নিরাপত্তা বলয়ে না থাকতে পারা একটা কারণ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান , চীনের মানুষ বসবাস করে আসছে।চীন ভারতের মানুষজন সহজ শর্তে তাদের রাষ্ট্রের সহযোগিতায় দেশটিতে কৃষি কাজ ও ব্যবসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান,আফগানিস্তানের মানুষরা অবৈধ পথে দালালের মাধ্যমে বর্ডার দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকছে তারপর শর্ত অনুযায়ী
রিফুজি হিসেবে বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছে।
গত কয়েক বছর হিসাব করে দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এক বছরে যতজন বাংলাদেশি অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে। তার শতকরা দশ ভাগেরও কম ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের নাগরিক খুন হচ্ছে।
শুধুমাত্র গতএকবছরে দেশটিতে বাংলাদেশি নিহত হয়েছে ১৫৬ জন। অন্য দিকে, পাকিস্তানের নয়জন,ভারতের সাতজন, অাফগানিস্তানের তিনজম নাগরিক অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে বা একেবারে পুঙ্গ হয়ে গেছে এমন সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
এতবেশী বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনার পিছনে যে বিষয় গুলো উঠে আসছে। তাদের অসাবধানতা, অবহেলা। নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার অভাব। দেশটিতে নিরাপত্তা সংস্থা গুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা না করা।
অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধ সংঘটিত হয় তুলনামূলক বেশি। এই সময়টাতে বাংলাদেশিদের সর্তকতা অবলম্বন করে চলা উচিৎ। একে অপরের মিলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাওয়া উচিত।