আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরার ব্যবহারে ভোটের ব্যয় বেড়ে যাবে এবং পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে কার্যকর মনিটরিং ও দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগ্রহী হওয়ায় সংস্থাটি তাদের মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়নের পক্ষে। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটকক্ষে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ১৪টি নির্ধারিত হয়েছে।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, নির্বাচনের ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ধরন নির্ধারণে ভৌত অবকাঠামো, কেন্দ্রের নিকটবর্তী প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের বাসস্থান ও থানার দূরত্ব বিবেচনা করা হয়েছে।
ইসি আরও জানিয়েছে, নির্বাচনকালে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত মোতায়েন, নির্বাচনী দ্রব্যাদির নিরাপদ পরিবহন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার, প্রাক-পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য রোধ এবং ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ।
কমিশন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল প্রকাশের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বাংলানিউজ।