ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ এলাকায় একটি বাসায় ঢুকে ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার রাতে (বুধবার দিবাগত গভীররাত) বাংলাদেশের রাজধানী শহরে এ ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, খবর পেয়েও দেরিতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুর্বৃত্তদের হামলার সময় পুলিশকে বারবার কল করা হলেও তারা অন্তত এক ঘণ্টা দেরিতে আসে। অথচ ঘটনাস্থল থেকে থানা ১০ মিনিটের পথ।
বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জাফরাবাদ এলাকার ৩৬১/২ নম্বর বাসায় এই ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যদের সম্পৃক্ততা আছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের আত্মীয় ফারজানা আক্তার ইতি বৃহস্পতিবার বলেন, “গতরাতে মোহাম্মদপুর জাফরাবাদ এলাকার ৩৬১/২ নম্বর আমার মামার বাসায় ডাকাতরা ঢুকে। আশেপাশের বাসার সবাই আত্মীয় এবং পরিচিত। খবর পেয়ে সবাই ডাকাত ধরতে আসে। সবাই মিলে চারজন ডাকাতকে আটকায়।”
তিনি আরো বলেন, “এরমধ্যে একজন ছুটে পালিয়ে গিয়ে ফোন করে কিশোর গ্যাংয়ের ১০-১২ জনকে ডেকে আনে। তারা রামদা, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে এসে আক্রমণ করে। তাদের এলোপাতাড়ি কোপে আমার ছয় আত্মীয় গুরুতর আহত হন।”
আহতদের রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একজনকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতেলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে পঙ্গু হাসপাতালে। বাকি দুজনকে জখমস্থানে সেলাইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বরাতে অভিযোগ করে ফারজানা ইতি বলেন, “থানা কাছে হওয়ার পরেও একঘণ্টা ধরে ফোন দিয়েও পুলিশকে আনতে পারিনি আমরা। আমি থানায় ফোন দেয়ার পর তারা আমাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করেন। আমি বললাম, আগে ঘটনাস্থলে যান। মানুষগুলোকে তো মেরে ফেলবে।”
ইতি আরো বলেন, “পরে আমি রাতেই লালমাটিয়া থেকে থানায় যাই। এর কিছুক্ষণ আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
তবে দেরিতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “রাত দেড়টা থেকে পৌনে দুইটার দিকে ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।”
ভুক্তভোগীরা বলছেন থানা কাছে হওয়ার পরও পুলিশ একঘণ্টার বেশি দেরিতে যায়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “না না, এমনটা কখনোই হয়নি। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই যায়।”
এদিকে ওই বাসায় ডাকাতি নয় বরং নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। বলেন, “ডাকাতি হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকে ঝামেলা।”
তিনি বলেন, “যারা কুপিয়েছে প্রথমে তারা মারধরের শিকার হয়েছে। পরে ওরা লোকজন এনে মারধরকারীদের কোপায়। পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”
তবে কী নিয়ে ঝামেলা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা।