গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রকল্পের সাইনবোর্ড না টানিয়ে তথ্য গোপন করে ভাংনামারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ মে) সকাল থেকে স্থানীয় উজান কাশিয়ারচরে ড্রেজার দিয়ে বালি কেটে এ প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজ শুরু করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বায়তুল্লাহ’র অভিযোগ, প্রকল্পের স্থান সঠিকভাবে নির্ধারণ না করেই আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও আমার পৈত্রিক জমিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবি, প্রকল্প প্রোফাইলে উজান কাশিয়ার চর মৌজার ১৭২৮ ও ১৭২৯ দাগে স্থান নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আমার পৈত্রিক মালিকানাধীন ১৬৭৯ দাগে মাটি ভরাট করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাটি ভরাটে সরকারি বরাদ্ধ ৮৮ মেট্রিক টন চাল। যার বাজার মূল্য ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত প্রায় ছয় মাস আগে ২২ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও এতদিন কাজ শুরু করা হয়নি। কিন্তু আগামী ৩০ জুন এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। তাই বরাদ্ধ ফেরত যাওয়ার ভয়ে তড়িগড়ি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে প্রকল্পের স্থান সঠিক ভাবে নির্ধারণ না করেই মাটি ভরাট কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ২২মেট্রিক টন চাল উত্তোলনের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, স্থান নির্ধারন করেছেন সার্ভেয়ার। এ বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। গৗরীপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বের বদলিকৃত সার্ভেয়ার যেভাবে প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিল। আমি সে ভাবেই স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছি। বিষয়টি আগের সার্ভেয়ার ভাল বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম সাংবাদিকদের জানান প্রকল্পের জমি নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে সার্ভেয়ার যে স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে আমি সেখানেই কাজ করছি। অভিযোগকারীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।