আবু সাইদ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: রৌমারী উপজেলার ৪নং রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নতুনবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নারী ভোটকেন্দ্র ও চরবামনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরুষ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর কেন্দ্র ২টি নারী ও পুরুষ উভয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন এলাকাবাসি।
এ ওয়ার্ডে মোল্লারচর, চরবামনেরচর, খাটিয়ামারী, রতনপুর, ব্যাপারীপাড়া, বোল্লাপাড়া, নওদাপাড়া, চান্দারচর, চরনতুনবন্দর ও গোয়সুল্লেরচর গ্রামের নারী ভোটাররা ৩/৪ কিলোমিটার দুরত্ব রাস্তার পাশাপাশি জিঞ্জিরাম নদী পারাপার হয়ে নতুনবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করতে হয়। অপর দিকে একই গ্রামের পুরুষ ভোটারদের একই অবস্থায় চরবামনের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করতে হয়। এতে রাস্তা ও নদী পারাপারে ঝুকিপূর্ণ থাকায় পুরুষ ও নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি সন্তোষজনক হয় না। বিগত নির্বাচনে চরবামনেরচর ভোট কেন্দ্রে শুধু পুরুষ ও নতুনবন্দর ভোট কেন্দ্র শুধু নারী ভোটাররা ভোট প্রদান করে আসছেন। এই ২ ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৪হাজার ৫শ’২৪জন।
ইতিপূর্বে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে এ সমস্যা নিরসনের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কার্যাকরি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এলাকার ভোটারগণ তাদের ভোট প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছেন। রতনপুর গ্রামের মহিতন বেওয়া (৭০) বামনেরচর গ্রামের রোকেয়া বেওয়া (৬৫) ব্যাপারীপাড়া গ্রামের সকিনা বেওয়া (৬৪) ও গুচ্ছগ্রামের মহেমা বেওয়া (৬০) জানান, জিঞ্জিরাম নদী ও অনেক দুর রাস্তা পায়ে হেটে নতুনবন্দর কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য যাওয়া খুবই কষ্ট হয়। তাই আমাদের বাড়ির কাছেই চরবামনেরচর কেন্দ্রে ভোট প্রদানের সুযোগ হলে কষ্ট করতে হবে না। চরনতুনবন্দর গ্রামের ওয়াজেদ আলী(৪৫), চান্দারচর গ্রামের কাজুমুদ্দিন (৭৫) নওদাপাড়া গ্রামের নওয়াব আলী (৭৩) ও ব্যাপারীপাড়া গ্রামের আব্দুল মারুফ বুলু (৭০) একই কথা বললেন। তারা আরো বলেন, নতুনবন্দর ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে পারলে কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া যেত।
গত ২৮ নভেম্বর নতুনবন্দর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় ও চরবামনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি নারী ও পুরুষ উভয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নি অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন এলাকাবাসি।
এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার দ্বীপঙ্কর রায় বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।