করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শীর্ষে থাকা স্পেন। গত ৩১ জানুয়ারি স্পেনের টেনেরিফে প্রথম একজন জার্মান পর্যটক এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এ সময় স্পেন সরকার তেমন একটা পাত্তা দেয়নি; এমনকি ইতালির নাজেহাল অবস্থায়ও টনক নড়েনি।
পরবর্তীতে গত ১৪ মার্চ স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানজেস জরুরি এলার্ট ঘোষণার নিয়ে ২০০ বিলিয়ন ইউরো প্রণোদনার একটি প্যাকেজের কথা জানান। ওই দিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যখাতের নানা কর্মসূচির মধ্যে- নির্দিষ্ট হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় স্পেনের সবক’টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন| হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ হাজার নিয়োগের কথা বলেছেন তিনি।
মেডিকেল কলেজে অধ্যায়রত ছাত্র-ছাত্রীদের এ দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদর ইয়া|
২১ মার্চ প্রেসিডেণ্ট সানজেস আবারো বলেছেন, এ যুদ্ধ কঠিন, তাই চিকিৎসাসেবার জন্য সময়ের মূল্যের ওপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে একত্রে শক্তিশালী হয়ে এ মহাদুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্পেনিশ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান।
মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় প্রায় ১০০টির মতো তিন, চার ও পাঁচ তারকা হোটেল বন্ধ করে করোনাভাইরাস রোগীদের অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করে সরকার। সেনাবাহিনীকে ১০হাজার শয্যা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যদিও এখন ৪৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে এবং ৫৫ শতাংশ চিকিৎসা হচ্ছে ঘরে।
স্পেনের সকল ইনডোর বাস্কেট বল, ভলিবল, জিমন্যাস্টিক গেইমের অডিটোরিয়ামগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরিভিক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে|
এছাড়াও গৃহহীনদের এই দুর্যোগের আওতায় আনতে আবাসিক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
পৃথিবীর দীর্ঘ আয়ুর দেশ স্পেন এখন করোনাভাইরাসে হতবিহ্বল| স্বাস্থ্যসেবায় স্পেনের অবস্থান ইউরোপে প্রথম সারিতে; তার পরও ঘুম হারাম করে দিয়েছে মরণঘাতী করোনা, কভিড-১৯।