সম্পাদকীয়:
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। সময়ের পরিক্রমায় আরেকটি বছর আমাদের অতীত হয়ে গেল। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্যকারীকে আমরা সময় হিসেবে অভিহিত করে থাকি। মাত্রা, কাল-স্থান বিশেষে প্রকাশের ভিন্নতা রয়েছে।
বাস্তবিকার্থে সময়ের ক্ষুদ্রতম একক সেকেন্ড হলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কালের আবর্তে মিনিট, ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছর, অধিবর্ষ, দশক, যুগ হীরক বা রজতজয়ন্তী, শতাব্দী কিংবা সহস্রাব্দ ইত্যাদি শব্দগুলোর মাধ্যমে সময়ের মাত্রা প্রকাশ করার প্রচলন রয়েছে।
সময়ের মাত্রার প্রভেদ শুধু নাম ও ব্যবহার এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; দেশে দেশে এসব মাত্রাগুলো সংস্কৃতি, উৎসব, পালা পার্বণেও রূপ নেয়। এসবের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ইংরেজি নববর্ষ উৎসব। বিশ্বের ইতিহাসে একদিকে যেমন প্রায় সব দেশে একই দিনে ইংরেজি নববর্ষ পালিত হয়; অন্যদিকে এখনো অনেক দেশে ভিন্ন তারিখে নববর্ষ উদযাপনের প্রচলন রয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবীর বেশির ভাগ স্থানে জানুয়ারির ১ তারিখে ইংরেজি নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে জুলিয়ান এবং পরবর্তীতে গ্রেগোরিয়ান প্রবর্তিত বর্ষপঞ্জির অনুসরণেই উদযাপন করা হয়ে থাকে। কবে থেকে পৃথিবীর মানুষ বর্ষবরণ শুরু করে, তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রায় চার হাজার বছর আগে অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ খ্রিস্টাব্দে মেসোপটেমীয় সভ্যতায় (বর্তমান ইরাক) প্রথম বর্ষবরণ চালুর বিষটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। এরমধ্যে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় বর্ষবরণ প্রথা প্রথমে চালু হয়। তবে তখন ইংরেজি নববর্ষের ন্যায় জানুয়ারির ১ তারিখে তা উদযাপিত হতো, তা কিন্তু নয়। ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় নববর্ষ পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হতো বর্ষবরণ। মেসোপটেমীয় সভ্যতা নববর্ষ পালনের পর রোমানদের খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সাল থেকে ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করার ইতিহাস রয়েছে।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বিশ্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করেছি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও সিরিয়ায় বাসার আল আসাদের পতন। যা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভু- রাজনীতিতে এনেছে নতুন মেরুকরণ।
আমরা মনে করি, রাশিয়া ইউ ক্রেনযুদ্ধ, ফিলিস্তিন ইসরাইল যুদ্ধ, নতুন করে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিরষণে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জার্মান বাংলা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন ইংরেজি নববর্ষে পৃথিবীর প্রতিটি দেশে, প্রতিটি পরিবারের নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ। পূরণ হোক বিশ্ববাসীর মৌলিক মানবিক চাহিদা। সমৃদ্ধ হোক পৃথিবী, প্রসারিত হোক মানবতা।