জার্মানবাংলা২৪ ডটকম: সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল ভোটগ্রহণ শুরুর পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে। তিনি ভোট চলাকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামানের দপ্তরে গিয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।
বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে আরিফুল বলেছিলেন , ‘এটা ভোট চুরি না, দিনে-দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ভোট ডাকাতি হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের উদ্দেশে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘এই জয়, জয় না। এটা মীর জাফরের জয়। এই জয়ের মাধ্যমে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমার পরাজয়টা বড় ব্যাপার না, এ নির্বাচনের ফলে নতুন প্রজন্ম একটি ভুল জিনিস শিখছে।’
আরিফুল আরও বলেন, ‘সৎ সাহস থাকলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা আছেন, আসেন নির্বাচন করি- দেখা যাবে কার কত জনপ্রিয়তা। কমপক্ষে এক লাখ ভোটে জয়লাভ করব। আমি এ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাওয়া উচিৎ না।’
কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় আস্তে আস্তে। ভোট গণনার শুরু থেকে দেখা যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগের পর আবার শেষ পর্যন্ত তিনিই বিজয়ের হাসি হাসলেন। এই বিষয়টি এক ধরনের রহস্যই বটে।
যদিও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলে জয়ের নিক্তি কখনও ছিল কামরানের পক্ষে, আবার পরক্ষণেই ব্যবধান কমে পাল্লা ভারি হয় আরিফুলের পক্ষে।
এভাবে ভোটগণনার পুরো সময় ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না কামরান। জয়ের মালা গেল আরিফুল হক চৌধুরীর গলে। এই সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৪। এর মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্র থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮৯৬ হাজার ভোট। অপরদিকে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। এর ফলে কামরানের চেয়ে ৫ হাজার ২৬ ভোট বেশি পেয়ে সিলেটের মেয়র হলেন আরিফুল হক চৌধুরী। যে দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭। এর ফলে এই দুই কেন্দ্রের ফলও ঘোষিত ফলে প্রভাব ফেলবে না।
সোমবার শেষ বিকালে ফল ঘোষণার শুরুতেই পিছিয়ে পড়েন কামরান। ইভিএম কেন্দ্রগুলোর ঘোষিত ফলে তো বটেই নির্বাচনে নিজ কেন্দ্রেই হেরে যান তিনি। তার কেন্দ্র সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী পেয়েছেন ৬৪৬ ভোট। আর বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট। এ কেন্দ্রে ১৩০ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন তিনি।