শিরোনাম :
৩১ কোটি বই ছাপার মহাযজ্ঞ: নতুন শিক্ষাক্রম ও ৪ বইয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় এনসিটিবি প্রথম ফুটবলার হিসেবে স্পেনের ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ সম্মাননা নিচ্ছেন মেসি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় সম্মতি পুতিনের ভবিষ্যতে বিক্ষোভ না করার মুচলেকায় ৭ দিন পর মুক্তি পেলেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে চীন-রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলন অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও পর্যটন প্রসারে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুফল পাচ্ছে চীন সাত দশকের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে চীনের কেন্দ্রীয় সমাজতন্ত্র ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে নতুন মাত্রা যোগ করল ‘আফ্রিকায় উচু অপেরা’ ২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘চামপি’: তাইওয়ানে জারি সতর্কতা, ফ্লাইট বাতিল ও সামরিক মহড়া ব্যাহত ‘সমাজের নিকৃষ্টরাই এমপি-মন্ত্রী হন, দুর্নীতিবাজরা হন নেতা’: তজুমদ্দিনে ক্ষোভ প্রকাশ স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, টিকা পাবে ৩৪ লাখ শিশু

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আবারও বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। সব মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত থাকবেন। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব শিশু চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকার মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়েছিল। এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় দেশব্যাপী ওই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তখন ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে স্বাস্থ্য বিভাগের ভুল হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুদের টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা বলেন, ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সে এমআর ভ্যাকসিনের নির্ধারিত দুটি ডোজ অবশ্যই নিতে হবে। সরকারের ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী নিয়মিত টিকা নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ডোজও নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অভিভাবকদের সন্তানদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান এই বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, এবারের কর্মসূচিকে ‘মপআপ প্রোগ্রাম’ বলা হচ্ছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়েছে, টিকাদান সম্পর্কে জানত না অথবা কোনো ধরনের লজিস্টিক সমস্যার কারণে টিকাদান কেন্দ্রে আসতে পারেনি, তাদের এবার টিকার আওতায় আনা হবে। বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, শুধু টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করলেই হাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাদের মতে, সংক্রমণের এলাকা শনাক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দেশে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সাত মাস পার হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সাত মাসের হিসাবে চলতি বছর হামে ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ১০১ জন মারা গেছেন।

একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জনের। গতকালও সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধান উপায় টিকা। আমরা ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চাই। ইপিআইয়ের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান চলবে, পাশাপাশি ক্যাম্পেইনও চলবে।’

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশকে প্রাদুর্ভাবের আগের পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নেওয়া। প্রাদুর্ভাবের আগের বছরে দেশে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ছিল না এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২ জন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সেই অবস্থায় ফিরে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD