নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও পে-স্কেলভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এক দফার দাবিনির্ভর এই সমাবেশ।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ একাধিক সংগঠনের সমন্বয়ে আয়োজিত সমাবেশে দেশজুড়ে কর্মরত সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা যোগ দেন। বক্তারা জানান, সরকারের কাছে বহুবার দাবি পেশ করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কর্মসূচি আরও জোরদার করেছেন। ইতিমধ্যে সারাদেশে একযোগে কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সমাবেশে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি—নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং তা দ্রুত কার্যকর করা। তার মতে, “৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কোনো ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
নেতারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতির চাপে সরকারি কর্মচারীদের জীবনে যে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন তা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষে কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন, যা আন্দোলনের পরবর্তী ধাপকে আরও সক্রিয় করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের এই দাবি আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারের প্রতিক্রিয়া ও নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী মোড়।