সম্পাদকীয়:আজ ২৮ সেপ্টেম্বর,বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’। ২০০২ সাল থেকে দিনটি তথ্য জানার অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের সক্রিয়তার ফলে তা নতুন রূপে গুরুত্ব পায়। ইউনেস্কোর রেজোলিউশন এবং আফ্রিকার নাগরিক সমাজের নিরলস প্রচেষ্টায় এই দিবসের যাত্রা শুরু হলেও এখন তা বৈশ্বিক পরিসরে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তথ্যের অধিকার মূলত মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ অধিকার অপরিহার্য। দুঃখজনকভাবে, আজও বিশ্বে অনেক দেশেই কার্যকর তথ্য অধিকার আইন নেই। আফ্রিকার মতো মহাদেশে যেখানে কেবলমাত্র একটি রাষ্ট্র আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে এ দিবসটি নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে—যাতে জাতীয় পর্যায়ের সব স্টেকহোল্ডার তথ্যের অধিকারকে আইনগতভাবে কার্যকর করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ নাগরিকদের ক্ষমতায়নের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে কাগজে-কলমে আইন থাকলেই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে এর প্রয়োগ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল, আমলাতান্ত্রিক অনীহা প্রবল এবং সাধারণ মানুষ অধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হয়। আইনটি কেবল নীতি নির্ধারণী মহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে সহজলভ্য হওয়াটাই জরুরি।
এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘পরিবেশ রক্ষায় ডিজিটাল যুগে তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণ’- অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, দূষণ বা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য নাগরিকদের নাগালের বাইরে থাকলে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য উন্মুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন জবাবদিহি বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
তথ্যের অধিকার কেবল আইনি অনুশীলন নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রাণ। তাই এই দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হতে হবে-তথ্যকে নাগরিকের হাতে পৌঁছে দেওয়া, প্রযুক্তিকে স্বচ্ছতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং সুশাসন ও পরিবেশ রক্ষার সংগ্রামকে তথ্যের শক্তিতে সমৃদ্ধ করা।