শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস: নেপথ্যে যুদ্ধ, সংঘাত ও আবহাওয়া সংকট নতুন বাণিজ্যিক ধারা সৃষ্টি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘাটতি পূরণে হাইনানের বিশেষ উদ্যোগ ইতিহাস অস্বীকারের প্রবণতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ্রাসন মুছে ফেলতে চায় ডানপন্থী শক্তি বেইজিংয়ে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো সিপিসির বিশতম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের ২০০ উইকেট সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু: ধাওয়াকারীরা ‘পুলিশের লোক’ ছিল বলে আটক বন্ধুর দাবি জাপানে চার দিনের সফল সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী লড়ার সুযোগ নেই: আনিসুল-সালমানসহ ৫ আসামির আবেদন নাকচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর: প্রথম ইউনিটে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ প্রক্রিয়ার অনুমোদন সাফল্যের চার বছর: মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছে জার্মান বাংলা চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশন

বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস: নেপথ্যে যুদ্ধ, সংঘাত ও আবহাওয়া সংকট

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং বৈরী আবহাওয়ার ত্রিমুখী প্রভাবে চলতি ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য গড়ে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ‘অক্টোবর ২০২৬ : কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ বছর বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মূল ধাক্কা আসছে জ্বালানি ও খাদ্য খাত থেকে। চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের বার্ষিক গড় দর ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বিগত ২০২৫ সালে ছিল মাত্র ৬৯ ডলার। আগামী ২০২৭ সালে এটি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নামার সম্ভাবনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও তীব্র হলে দাম ১০৫ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেওয়ার কারণে মজুত উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং রুশ পরিশোধিত তেল উৎপাদনে বিঘ্ন বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে। শুধু এ বছরই নয়, ২০২৭ সালেও খাদ্যপণ্যের মূল্য আরও ৭ শতাংশ বেড়ে দুই বছরে মোট দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে সার ও জ্বালানির চড়া দামের পাশাপাশি জলবায়ুগত ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বৈশ্বিক শস্যমূল্য বেড়েছে ১৪ শতাংশ, যা আগামী বছর আরও ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।

জ্বালানি ও খাদ্যের বাইরে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) ও ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ধাতু ও খনিজের দাম এ বছর ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২৭ সালে সামগ্রিক সূচক ৭ শতাংশ কমার আভাস রয়েছে, তবে সংকটের অবনতি ঘটলে তা ২০২২ সালের রেকর্ড মূল্যস্ফীতিকেও ছাড়িয়ে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তীব্র করতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক তাদের বিদ্যমান তহবিল থেকে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের সক্ষমতা প্রস্তুত রেখেছে, যার মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংকের ‘অক্টোবর ২০২৬ : কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD