বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষোভ প্রকাশ এবং মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের গতিময় পেসার হারিস রউফ। ক্রিকেটের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাকে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ অর্থ জরিমানা করার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
গত ২৫ অক্টোবর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ইনিংস চলাকালীন ৪৬তম ওভারের শেষ বলে ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের একটি শর্ট ডেলিভারি মোকাবিলা করেন শাদাব খান। তখন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা হারিস রউফ বলটিকে ‘ওয়াইড’ ঘোষণার জন্য অনফিল্ড আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের প্রতি জোরালো দাবি জানান। আম্পায়ার সৈকত ওয়াইডের সংকেত না দিলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন রউফ।
এ সময় ক্ষোভের বশে তিনি মিড-অনে থাকা ইংলিশ ফিল্ডার উইল জ্যাকসের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে অসন্তোষ জানাতে জানাতে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আম্পায়ার সৈকত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও দুই ক্রিকেটারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরবর্তীতে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক জো রুটের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি নিশ্চিত করেছে, সংস্থাটির আচরণবিধির ২.২০ ধারা অনুসারে ‘খেলার চেতনার পরিপন্থী আচরণ’ করার অভিযোগে রউফকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ম্যাচ রেফারিদের উত্থাপিত অভিযোগ রউফ নিঃশর্তে স্বীকার করে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। উল্লেখ্য, গত ১৪ মাসের ব্যবধানে এটি এই পাকিস্তানি পেসারের পঞ্চম ডিমেরিট পয়েন্ট। আগামী বছরের ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার ঝুলিতে আরও তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হলে মোট পয়েন্ট আট হয়ে যাবে, যার ফলে ২৪ মাসের বিধিমালার আওতায় চার ম্যাচের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন তিনি।
এদিকে একই ম্যাচে মন্থর ওভাররেটের কারণে সফরকারী ইংল্যান্ড দলকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন ওভার পিছিয়ে থাকায় দলটির প্রতিটি খেলোয়াড়কে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়, যা ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মেনে নিয়েছেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) মিডিয়া রিলিজ ও ম্যাচ রেফারিজ রিপোর্ট।