ইয়েমেনের তাইজে সংঘাত তীব্র হওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে সুপেয় পানি সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ১৬ লাখের বেশি শিশুসহ প্রায় ৩০ লাখ মানুষ পানির সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ ব্যাহত হওয়ায় পানির পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ট্রাকে করে সরবরাহ করা পানির দামও বেড়েছে কয়েক গুণ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউনিসেফের ইয়েমেন প্রতিনিধি আখিল আইয়ার এ উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে প্রয়োজনীয় সরবরাহপথগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে পানি সরবরাহব্যবস্থা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানির অভাবে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের সুপেয় পানি পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ইউনিসেফের হিসাবে, তাইজের পানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তাদের মধ্যে অন্তত ১৬ লাখ শিশু। সংঘাতের কারণে এই জনগোষ্ঠীর পানি পাওয়ার স্বাভাবিক ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে পানির বাজারেও পড়েছে। আখিল আইয়ার জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ট্রাকে করে সরবরাহ করা পানির দাম তিন গুণ বেড়েছে। ফলে যেসব পরিবার বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করে, তাদের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তাইজে মানবিক সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে। গত সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। ইয়েমেনজুড়ে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের অর্ধেকেরও বেশি তাইজ গভর্নরেটে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
পানি সংকটের পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টিও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর তাইজে ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫২ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মৌলিক সেবার ঘাটতির মধ্যে এসব শিশুর পুষ্টি পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, এসব এলাকায় গমের আটার মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে পানি ও খাদ্য—দুই ক্ষেত্রেই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একদিকে জ্বালানির অভাবে পানি সরবরাহব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি, অন্যদিকে খাদ্য ও পুষ্টির সংকট—সব মিলিয়ে তাইজের লাখো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)